আজকাল ওয়েবডেস্ক:  পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জলবায়ু সংকট বোঝার জন্য এবার সরাসরি ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’-এর বুকেই ঘাঁটি গেড়েছেন বিজ্ঞানীরা। অ্যান্টার্কটিকার থওয়েটস গ্লেসিয়ার, যা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও দ্রুত গলতে থাকা হিমবাহগুলির একটি হিসেবে পরিচিত, সেটিকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতেই এই অভিযান। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২২ শতকের শুরুর দিকেই এই বিশাল হিমবাহ সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যেতে পারে।


জানুয়ারি মাসে প্রায় ১৭ টন যন্ত্রপাতি, ড্রিলিং সরঞ্জাম এবং গবেষণা সামগ্রী নিয়ে গ্লেসিয়ারের উপর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ১০ সদস্যের গবেষক দলটির লক্ষ্য, বরফের গভীরে ছিদ্র করে নিচের উষ্ণ সমুদ্রজলে বিশেষ সেন্সর ও মনিটরিং যন্ত্র বসানো। এই যন্ত্রগুলি ভবিষ্যতে দূর থেকে তথ্য পাঠাবে— সমুদ্রের তাপমাত্রা, বরফের পুরুত্ব কমার হার এবং গলনের প্রকৃত কারণ।


তবে এই অভিযান মোটেই সহজ ছিল না। প্রবল ঠান্ডা, ঝোড়ো হাওয়া এবং ঘন মেঘে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ায় হেলিকপ্টার গ্লেসিয়ারে নামতে পারেনি। কয়েকদিন ধরে অপেক্ষার পর আবহাওয়ায় সামান্য উন্নতি হতেই গবেষকরা দ্রুত মালপত্র নামিয়ে ক্যাম্প তৈরি করেন। সময় তাদের হাতে খুবই সীমিত। ক্যাম্প বসাতে এক সপ্তাহ কেটে যাওয়ায় হাতে রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন।

 

দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিরাপদে কাজ শেষ করা। তবে আমরা আশা করছি, এমন কিছু তথ্য নিয়ে ফিরতে পারব যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বড় বার্তা দেবে।”
থওয়েটস গ্লেসিয়ারকে ‘ডুমসডে’ বলা হয় কারণ এটি ভেঙে পড়লে তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, এই গ্লেসিয়ার ধসে পড়লে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফলে উপকূলবর্তী বহু শহর, দ্বীপ ও জনবসতি স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।


সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকায় ৩৬২টি ‘গ্লেশিয়াল আর্থকোয়েক’ বা বরফের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৫টি আঘাত করেছে থওয়েটস গ্লেসিয়ারে। এই কম্পনগুলি তৈরি হয় যখন বিশাল বরফখণ্ড ভেঙে পড়ে। ফলে হিমবাহটি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, থওয়েটস শুধু একটি গ্লেসিয়ার নয়, এটি গোটা পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তাই এই অভিযানের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা সময়ের সঙ্গে লড়াই করে তথ্য সংগ্রহ করছেন— কারণ থওয়েটসের প্রতিটি ফাটল, প্রতিটি গলনই মানবসভ্যতার জন্য এক সতর্কবার্তা।