আজকাল ওয়েবডেস্ক: মৃত্যু। চারিদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা। গাজায় এই দৃশ্য নতুন নয়। তবে একটি ভিডিও-তে দেখা গেল ধ্বংসের এক অন্য রূপ। গাজার কয়েকজন শিশু, নিজের প্রিয় পুতুলের শেষকৃত্য আয়োজন করেছে। তাদের এই খেলার ধারণা কোথা থেকে এসেছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই ভিডিও প্যালেস্টাইনের এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পাঁচ শিশু নিজেদের প্রিয় পুতুলের শেষকৃত্য আয়োজন করেছে। তাদের ছোট ছোট কাঁধে উঠে এসেছে নিজের পুতুলের মৃত দেহ। নগ্ন, ধুলো মাখা ওই পুতুল শোয়ানো ছিল একটি স্ট্রেচারে। সেই স্ট্রেচার সমেত বাচ্চারা পুতুল তুলেছে কাঁধে। ধীরে ধীরে সেই স্ট্রেচার তারা মাথায় তুলে নেয়। ছোট্ট ছোট্ট পায়ে এগিয়ে চলেছে কবরের দিকে। 

এই খেলা পরিচিত সেই চিরাচরিত শৈশবের খেলার মতো নয়। এই খেলা তাদের মাথায় এসেছে দিনের পর দিন ধরে নিজের প্রিয় মানুষদের হারানোর পরে। সেই শোক, সেই চিরবিদায়ের যন্ত্রণা এনে দিল তাদের জীবনে পুতুলের শেষকৃত্যের চিন্তা। যে বয়সে সবসময় হাসিখুশি থাকার কথা, সেই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার দগদগে স্মৃতি এই খুদেদের মনে এনে দিল শোকের দায়। সংঘর্ষ তাদের বাধ্য করল লুকোচুরি না খেলে প্রিয় পুতুলের শেষকৃত্য আয়োজন করতে। 

ভিডিওটি ভাইরাল হলে, এই খেলার ভিতরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার কথা ভেবে কেঁপে উঠল নেটদুনিয়া। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘এটা আমাদের সবচেয়ে বড় লজ্জা। গুড ফ্রাইডে-র সন্ধ্যায় এই ভিডিও চোখে পড়ল। শৈশবের স্বপ্ন, সারল্য আর তাদের ভবিষ্যৎ, সবটুকুই আজও ক্রুশবিদ্ধ করা হচ্ছে। আমরা এদের জন্য একটু শান্তি আনতে পারি না বিশ্বে?’ আর একজনের মন্তব্য, ‘একটা গোটা প্রজন্মের শৈশব ধ্বংস হয়ে গেল। সারাজীবন এই মানসিক যন্ত্রণা এদের কুড়ে-কুড়ে খাবে। অবশ্য যদি ততদিন জীবিত থাকে তাহলে’। 

গাজার সংঘর্ষের জন্য প্রাণ গিয়েছে অনেক। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন ১৬ মাসের মধ্যে। ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ শুরু হয়ে এই সংঘর্ষ যখন হামাস ইজরায়েলের উপরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করে। সেই সংঘর্ষ চলে দু’বছর ধরে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ অবধি সব মিলিয়ে ৪২,২০০ জন মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক মারা গিয়েছেন।