আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্থির পরিস্থিতি গোটা মধ্যে এশিয়া জুড়ে। সেই কথা মাথায় রেখে পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা ফের স্থগিত করল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। মঙ্গলবার মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ৫ এবং ৬ মার্চে নির্ধারিত দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের একাধিক জায়গায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু ইত্যাদি কারণে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যার ফলে CBSE পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর আগে গত ২ মার্চের নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করেছিল বোর্ড।

একটি বিবৃতিতে বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্য এশিয়ার কিছু অংশের বর্তমান পরিস্থিতির পর্যালোচনার পরে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষা কর্মীদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সিবিএসই জানিয়েছে যে প্রভাবিত দেশগুলির সমস্ত শিক্ষার্থীকে যথাসময়ে নতুন পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। মঙ্গলবার জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাহরিন, ইরান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডঃ সান্যম ভরদ্বাজ, সমস্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত আপডেটের জন্য তাঁদের স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং সিবিএসই-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাগুলিকে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। ৭ মার্চ যে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি রয়েছে সেগুলি হবে কি না তা পর্যালোচনার পর ৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেবে বোর্ড।

এর আগে, সিবিএসই ২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত করে বলেছিল যে নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। বোর্ড আরও জানিয়েছি যে তারা ৩ মার্চ পরিস্থিতি আবার পর্যালোচনা করবে এবং ৫ মার্চ থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকেলে আমেরিকা এবং ইজরায়েল তেহরানের একাধিক জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে ছিল শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনেইয়ের কম্পাউন্ড। সেই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে ইরান জানায় যে, খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ইরান পাল্টা জবাবে তেল আভিভ এবং ইজরায়েলের অন্যান্য এলাকা, পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি এবং দূতাবাস এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে বেসামরিক ও জ্বালানি সুবিধাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই ঘাত-প্রত্যাঘাতের ফলে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।