আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফরাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরে। এই একটি চুক্তির উপরেই নাকি নির্ভর করে আছে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক। তেমনটাই বলছেন বিএনপির মহাসচিব, বাংলাদেশে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

দীর্ঘ সময় ধরে, একাধিক কারণে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক টলোমলো। উত্তাল পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ভারত আসা এবং এখানেই থেকে যাওয়া নিয়ে সম্পর্কের সুতো ক্ষয়েছে আরও। তবে এবার দু'দেশের সুসম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে ওই একটি চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েই। তেমনটাই মত, বিএনপি নেতার। কী বলছেন তিনি? বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে সূত্রের খবর মির্জা ফখরুল বলেছেন, 'ভারতের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সুযোগ এসেছে, সেটা নির্ভর করবে ভারতের এই গঙ্গা চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তির ওপর। এ কথা আমি বিশ্বাস করি এবং সেই আহ্বান আমরা তাদের কাছে জানাতে চাই।' সঙ্গেই তিনি সাফ জানিয়েছেন, 'বাংলাদেশের স্বার্থ নষ্ট করে আমরা কখনওই কাউকে কোনও চুক্তি করতে দেব না। এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।' তাঁর অভিযোগ, হাসিনার আমলে সাক্ষরিত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতের জল বণ্টন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নতুন চুক্তি সাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চুক্তি কার্যকর থাকা প্রয়োজনীয়,তেমনটাই মত তাঁর। তাঁর মতে, দু'দেশের মধ্যে কোনও জল বণ্টন নীতিই নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ নয়। 

 

উল্লেখ্য, কলকাতা বন্দরের পলি অপসারণ এবং নৌচলাচল যোগ্যতা বজায় রাখতেই ২২৪০ মিটার দীর্ঘ ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি হয়। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও ব্যবস্থার মাধ্যমে জলবণ্টন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এখন সেই মেয়াদ শেষের মুখে। এবার ওই চুক্তিকেই দুদেশের সুসম্পর্কের হেতু বানাচ্ছেন বিএনপি নেতা। তাঁর দাবি তেমনটাই।

 

 

বিএনপি নেতার এই মন্তব্য সামনে এসেছে, পদ্মা নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের বড় প্রকল্পের অনুমোদনের পর। সূত্রের তথ্য, ওই প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে ২০৩৩ সাল নাগাদ। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে এই প্রকল্প। 

 

 

ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি হয় ১৯৯৬ সালে। তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। তার আগেই এই চুক্তি নিয়ে বড় দাবি উঠে এল বিএনপি নেতার মুখে।