আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে এক ছাত্রী নাকি স্তন দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে নানা বর্ণনা ও পাল্টা বর্ণনা ভাইরাল হলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরো বিষয়টিই ভিত্তিহীন এবং পুরনো একটি ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালের বানানো খবর।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এনামুল হক অভিযোগ করেছেন যে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও একটি ছাত্র সংগঠনের নেত্রী ফাতেমা খানম ঘনিষ্ঠতার সময় তাঁর শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান এবং থানায় মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রীর বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়—ঘটনাটি ছিল দুর্ঘটনা, ইচ্ছাকৃত কিছু নয়, পাশাপাশি অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের কথাও উল্লেখ করা হয়।

&t=10s

তবে ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ‘রিউমর স্ক্যানার’-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ধরনের কোনও  ঘটনার সত্যতা নেই। ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটটি ২০১৫ সালে একটি অজ্ঞাত ও অবিশ্বস্ত অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত বানোয়াট প্রতিবেদনের অংশ। সেই প্রতিবেদনে অভিযোগের পক্ষে কোনও  নির্ভরযোগ্য তথ্য, পুলিশ রেকর্ড বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ হাজির করা হয়নি।

আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি ‘Aparadh Kantha’ নামের একটি ভুঁইফোড় ওয়েবসাইটে প্রায় একই ধরনের গল্প ভিন্ন পরিচয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়ও আলাদা ছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি বাস্তব নয় বরং একই কাহিনি বিভিন্ন সময়ে সামান্য ভাষা ও পরিচয় বদলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, অতীতেও এই মিথ্যা খবর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তখনও ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয় যে, এটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও অসত্য তথ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ও অস্বাভাবিক ঘটনার বর্ণনা ব্যবহার করে ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা মানুষের কৌতূহলকে উসকে দেয়। তাই সামাজিক মাধ্যমে এমন কোনো তথ্য দেখলে সেটি যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।