আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে অসহিষ্ণুতা আর গণপিটুনির এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়ে যুক্ত হলো আরও একটি রক্তক্ষয়ী নাম। সম্প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সুফি পীর শামিম রেজার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর। অভিযোগ উঠেছে, ‘ইসলামবিরোধী’ মন্তব্যের জেরে এক উন্মত্ত জনতা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে নির্বাসিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে এক ‘অদ্ভুত অন্ধকার’ নেমে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শামিম রেজা স্থানীয়ভাবে পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কার্যকলাপ এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে স্থানীয় কট্টরপন্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি নিজেকে আল্লাহ বা নবী হিসেবে দাবি করতেন এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী নানা কথা প্রচার করতেন। বিশেষ করে, হজের পরিবর্তে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানে যাওয়ার মতো আপত্তিকর কথা এবং ফেসবুকে তাঁর দেওয়া বেশ কিছু বক্তৃতাই এই গণপিটুনির মরণফাঁদ তৈরি করে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর এই ‘ভণ্ডামি’ আর সহ্য করতে না পেরেই উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, যার পরিণতি হয় পীর সাহেবের মর্মান্তিক মৃত্যু।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বাংলাদেশে সুফি সাধকদের ওপর বাড়তে থাকা এই ধরণের আক্রমণকে আধুনিক সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তসলিমা মনে করেন, ভিন্নমতের ওপর এই ধরণের পাশবিক আঘাত দেশটিকে এক মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যেখানে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য কাউকে জনসমক্ষে প্রাণ দিতে হয়, সেখানে নাগরিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই লেখিকা। 

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ঘটনা বাংলাদেশে বাড়তে থাকা গণ-হিংসার কোনও  বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একাধিক গণপিটুনির ঘটনা নজরে এসেছে। এর আগে ময়মনসিংহে হিন্দু কারখানা শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো দগদগে। একের পর এক এমন ঘটনা এবং সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর এই ধরণের হামলা প্রমাণ করছে যে, বর্তমান সময়ে সেখানে সহনশীলতা এক কঠিন সংকটের মুখে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও, বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর গণ-আদালতের নামে এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।