আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের নতুন একটি ভয়াবহ ঘটনার খবর সামনে এসেছে। চুরির সন্দেহে একদল মানুষের ধাওয়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৫ বছর বয়সি এক হিন্দু যুবকের। মৃতের নাম মিঠুন সরকার। তিনি বাংলাদেশের ভান্ডারপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রতিবেশী বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।
মিঠুন সরকারের মৃত্যু সাম্প্রতিক কয়েক দিনের একাধিক নৃশংস ঘটনারই অংশ। সোমবার যশোর জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে নিহত হন এক হিন্দু ব্যবসায়ী। তিনি একটি সংবাদপত্রের কার্যনির্বাহী সম্পাদকও ছিলেন। একই দিনে নরসিংদী শহরে এক ৪০ বছর বয়সি হিন্দু মুদি দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে, ৩ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার কেয়ারভাঙা বাজার এলাকায় খোকন চন্দ্র দাস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে মারধর করে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। ডিসেম্বর মাসজুড়েও একের পর এক হিংসার ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায় চাঁদার জুলুমের অভিযোগে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার কয়েক দিন আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ২৫ বছর বয়সি দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুধু ডিসেম্বর মাসেই সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৫১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ড। সংগঠনটি জানিয়েছে, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনাও বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে হিন্দুদের ভয় দেখাতেই এই হামলাগুলি পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে।
একটি প্রতিবেদনে ঐক্য পরিষদ উল্লেখ করেছে, “বাংলাদেশ অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সাম্প্রদায়িক আতঙ্ক একসঙ্গে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে।” মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্র নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতা সেটাই বারে বারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে সেই উত্তর নেই কারও কাছে।
