আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে আকাশপথের ভ্রমণ ব্যয়বহুল হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে ফের বাড়ল উড়ানের জ্বালানির দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার বিমানের জ্বালানির দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। চলতি মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। 

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানের জন্য বিমানের জ্বালানির দাম বেড়ে হয়েছে ২০২.২৯ টাকা। যা আগে ছিল ১১২.৪১ টাকা। গত মাসে দাম ছিল ৯০ টাকা। আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে, দাম লিটার প্রতি ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বেড়ে ১.৩২১৬ ডলারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে দেশে এভিয়েশন বা বিমান জ্বালানির খরচ এখন ১০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিইআরসি-এর চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায়, আমাদের চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো জেট জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।"

**বিমানের টিকিটের দামও ব্যাপকভাবে বাড়ার আশঙ্কা**
এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিমানের টিকিটের ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিন্তা বাড়ল প্রবাসী শ্রমিকদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াতের জন্য মূলত বিমান ভ্রমণের ওপরই নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বিশ্লা সংক্যায় মানুষ বিদেশে কর্মরত। এদের অনেকেই দেশে ফেরা কিংবা কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য সাশ্রয়ী বিমান ভ্রমণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি এএফপি-কে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকরা এমনীতেই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উড়ানের স্বল্পতা এবং টিকিটের অত্যধিক চাহিদার কারণে তাদের ভ্রমণের জন্য ইতিমধ্যেই মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হচ্ছে। এখন জেট জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এই আগে থেকেই বিপর্যস্ত খাতের ওপর আরেকটি বড় আঘাত হয়ে দেখা দেবে।"

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এওএবি) এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনের মহাসচিব মহম্মদ. মফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে জ্বালানির কোনও সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি পূর্বনির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেলের একাধিক চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, "এই প্রেক্ষাপটে, ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে জেট ফুয়েলের দামের এমন উল্লম্ফন কোনওভাবেই যৌক্তিক নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পদক্ষেপের ফলে এমনকী কিছু অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল স্থগিত করতেও হতে পারে।