আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর জরুরি সাংবিধানিক অবস্থা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সেখানকার ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতোল্লাহ আলিরেজা আরাফি।


ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ সক্রিয় করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা ক্ষমতার ক্ষেত্রে জরুরি নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণ করে। এই ব্যবস্থায় তিন সদস্যের একটি পরিষদ অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা গ্রহণ করে, যতক্ষণ না স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। আলিরেজা আরাফিকে এই অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের ‘ফকিহ’ বা ধর্মীয় বিচারপতি সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তার এই নিয়োগের মাধ্যমে তিন সদস্যের পরিষদটি পূর্ণতা পেয়েছে।


এই পরিষদে তার সঙ্গে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি ঘোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই। তিনজন মিলে এখন সেই সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবেন, যা এতদিন এককভাবে আয়াতোল্লাহ খামেনেইর হাতে ছিল। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেনেইর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরান এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটে প্রবেশ করেছে।


১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া ৬৭ বছর বয়সী আয়াতোল্লাহ আলিরেজা আরাফি ইরানের ধর্মীয় কাঠামোর একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ইরানের জাতীয় ইসলামিক সেমিনারি নেটওয়ার্কের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ধর্মীয় সদস্য এবং অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন দায়িত্বের ফলে দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এদিকে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক সংস্থা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস -তেও নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল মহাম্মদ পাকপুর একই হামলায় নিহত হন। সেখানকার গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আহমদ বাহিদিকে নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি ইরানের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গভীর প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠান, যা নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর বাইরে স্বাধীন কাঠামোয় পরিচালিত হয়।


শনিবারের ওই ব্যাপক সামরিক অভিযানে তেহরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, সরকারি অফিসে আঘাত করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু  খামেনেইর মৃত্যু ঘোষণা করেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প খামেনেইর কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং এটিকে ন্যায়বিচার হিসেবে আখ্যা দেন।

 


প্রাথমিকভাবে ইরান খামেনেইর মৃত্যুর খবর অস্বীকার করলেও পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। বহিরাগত সামরিক হামলা এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের দ্বৈত চাপে এখন তারা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা—এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই আগামী দিনগুলোতে তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।