আজকাল ওয়েবডেস্ক: সৌদি আরবের সবচেয়ে বয়স্ক নাগরিক হিসেবে পরিচিত শেখ নাসের বিন রাদ্দান আল রাশিদ আল ওয়াদাই প্রয়াত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১৪২ বছর। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বয়স ও প্রচলিত ধারণাকে অগ্রাহ্য করা নাসেরের অসাধারণ জীবনের গল্প সমাজ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
নাসের ১১০ বছর বয়সে বিয়ে করেন। খবর সেটা নয়, খবর হল সেই বিয়ের পর তিনি এক কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এত বেশি বয়সে বিয়ে এবং পিতৃত্বের স্বাদ পাওয়ায় তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। বিশ্বের সকলেই তাঁকে দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। চিকিৎসক এবং গবেষকরা নাসেরের শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক সচেতনতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। চরম বার্ধক্যেও তাঁর জীবনীশক্তি ও মানসিক তীক্ষ্ণতা বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল সকলের মনে।
নাসের জীবদ্দশায় সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান আল সৌদ (ইবনে সৌদ)-এর যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান শাসক বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের শাসনকাল পর্যন্ত দেখেছেন। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি বিশাল মরুভূমি থেকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে দেশটির রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে তেল অর্থনীতির উত্থান, দ্রুত পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন।
গভীর ধার্মিকতা ও শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নাসের তাঁর জীবদ্দশায় ৪০ বার হজ পালন করেছিলেন। তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁর প্রবল আধ্যাত্মিক নিষ্ঠাই তাঁর দীর্ঘায়ুতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ খাবার খেতেন। নিয়মিত রুটিন মেনে চলতেন এবং শৃঙ্খল ও সংযমপূর্ণ জীবনযাপন করতেন।
নাসেরের পরিবারে সন্তান, নাতি-নাতনি এবং প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী-সহ মোট ১৩৪ জন সদস্য ছিলেন। তাঁর পরিবার সৌদি সমাজে বেশ সম্মানিত। তিনি পরিবারের প্রতিটি প্রজন্মের একটি সেতুবন্ধন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক ক্ষেত্রের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি রিয়াধে তাঁর শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে।
