আজকাল ওয়েবডেস্ক:  গোটা বিশ্বের নজর এখন রয়েছে ইসলামাবাদের দিকে। একদিকে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদল—দুই সপ্তাহের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য পাকিস্তানে পৌঁছেছিল দুই পক্ষই। কিন্তু কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনির। কারণ  প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নন, বরং তিনিই নিজে বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানালেন—যা পাকিস্তানের ক্ষমতার বাস্তব চিত্রই তুলে ধরল।


বিশেষ করে মুনিরের পোশাক বদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ৭১ সদস্যের ইরানি প্রতিনিধিদল—যার নেতৃত্বে ছিলেন সংসদের স্পিকার এবং বিদেশমন্ত্রী। তাদের স্বাগত জানানোর সময় মুনিরকে দেখা যায় ক্যামোফ্লাজ কমব্যাট ড্রেসে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসলামাবাদে পৌঁছান, তখন তিনি পরিপাটি স্যুট পরে হাজির।


এই ‘ইউনিফর্ম ডিপ্লোমেসি’ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নিছক কাকতালীয় নয়, বরং সুপরিকল্পিত বার্তা। ইরানের ক্ষেত্রে সামরিক পোশাক পরে মুনির যেন শক্তি ও কঠোরতার ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও অতীতের ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের প্রেক্ষিতে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সামনে স্যুট পরে নিজেকে কূটনীতিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।


প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালে ইরান পাকিস্তানের বালুচিস্তানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার জবাবে পাকিস্তানও ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে পাল্টা হামলা করে। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তবুও পারস্পরিক সন্দেহ এখনও কাটেনি। এই প্রেক্ষাপটে মুনিরের সামরিক পোশাক যেন একপ্রকার শক্তির প্রদর্শন।


অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে স্যুট পরা মুনিরের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে। এতে তিনি নিজেকে শুধু সেনাপ্রধান নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অতীতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি স্যুট পরেই দেখা দিয়েছেন।


তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল অভ্যন্তরীণ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সেনাবাহিনীর প্রভাব যে কতটা গভীর, সেটিই আবার স্পষ্ট করলেন মুনির। আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, এমন উচ্চপর্যায়ের অতিথিদের স্বাগত জানানোর দায়িত্ব সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রীর। কিন্তু সেখানে সেনাপ্রধানের এই ভূমিকা অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

 

&t=546s
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘পোশাকের রাজনীতি’। আর সেই রাজনীতির মাধ্যমে মুনির যেন বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে তিনিই রয়েছেন।