আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় সৌরশক্তি শিল্পের ওপর বড়সড় ধাক্কা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের নেওয়া সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে ভারতীয় সৌর প্যানেল ও সেলের ওপর ১২৩.০৪ শতাংশ প্রাথমিক 'অ্যান্টি-ডাম্পিং' শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর আগে ভারতের ওপর ইতিমধ্যেই ১২৫ শতাংশের বেশি ক্ষতিপূরণমূলক শুল্ক (কাউন্টারভেইলিং ডিউটি) কার্যকর ছিল। সব মিলিয়ে এখন ভারতীয় সৌর রপ্তানির ওপর মোট করের বোঝা ২০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল, যা কার্যত মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর জানিয়েছে, মুন্ড্রা সোলার এনার্জি, কোওয়া এবং প্রিমিয়ার এনার্জি-র মতো সংস্থাগুলোর আমদানির ক্ষেত্রে কিছু 'সঙ্কটজনক পরিস্থিতি' লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কয়েকটি ভারতীয় সংস্থা শুল্ক নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেয়নি এবং তদন্তে অসহযোগিতা করেছে। এর জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মজার বিষয় হল, এই নিয়মটি আদেশ জারির ৯০ দিন আগে থেকে কেনা পণ্যগুলোর ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় সৌর শিল্পমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল সোলার এনার্জি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (NSEFI)-র সিইও সুব্রহ্মণ্যম পুলিপাকা এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর জন্য ভারতের পক্ষ থেকে জোরদার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ান সোলার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA)-ও জানিয়েছে যে, তারা এই অন্তর্বর্তীকালীন রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং চূড়ান্ত রায়ে ইতিবাচক ফলের আশা করছে।
তবে ভারতের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্যে এর প্রভাব এখনই খুব একটা পড়বে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ গত কয়েক বছরে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার বাজারগুলোর দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। কিন্তু এই শুল্ক ঘোষণার প্রভাব ভারতের শেয়ার বাজারে বেশ স্পষ্ট ছিল। শুক্রবার ওয়ারি এনার্জি এবং বিক্রম সোলার-এর মতো বড় সংস্থাগুলোর শেয়ার দরে পতন লক্ষ্য করা গেছে। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাঝে আমেরিকার এই কড়া অবস্থান ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।















