আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ লিলি ফিলিপসের সাম্প্রতিক ব্যাপ্টিজম নেওয়ার ঘোষণা খ্রিস্টান সমাজে তীব্র এক  বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনুগ্রহ, অনুতাপ এবং প্রকাশ্য পরিসরে ঘটে যাওয়া ধর্মান্তরকে কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত এই চিরন্তন প্রশ্নই আবার সামনে চলে এসেছে। ২৪ বছর বয়সি ফিলিপস, যিনি একসময় দাবি করেছিলেন মাত্র ১২ ঘণ্টায় ১,০০০-রও বেশি পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্যাপ্টিজম-এর  ভিডিও প্রকাশ করেন। সেই ভিডিও যেমন একাংশের কাছে আশার প্রতীক, তেমনই অন্যদের চোখে সন্দেহের কারণ।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্যাপ্টিজম কুণ্ডের পাশে এক ধর্মযাজকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ফিলিপস। এরপর তাঁকে সম্পূর্ণভাবে জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওর পর্দায় ভেসে ওঠে লেখা “চিরদিন মনে রাখার মতো এক দিন”, আর পেছনে বাজতে থাকে ক্যানিয়ে ওয়েস্টের গান ''God Is''। কোন চার্চে এই ব্যাপ্টিজম হয়েছে, তা তিনি প্রকাশ করেননি। তবে এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপস জানান, এটি তাঁর জীবনের এক ‘আধ্যাত্মিক রিসেট’, দীর্ঘদিন বিশ্বাস থেকে দূরে থাকার পর ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার প্রয়াস।

ফিলিপস বলেন, “একটা সময় আমি ধর্ম থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছিলাম। অনেক বিষয় অস্বীকার করছিলাম। ব্যক্তিগত জীবনে বড় কিছু ঘটার পর আবার ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার তাগিদ অনুভব করি। অনেকদিন বিশ্বাস চর্চা করিনি। এই ব্যাপ্টিজম-এর মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, অ্যাডাল্ট সিনেমার  জগতে বিশ্বাস একেবারে অনুপস্থিত নয়, যদিও তা প্রকাশ্যে খুব কমই আলোচিত হয়। “এই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক খ্রিস্টান মেয়েই আছে,” বলেন ফিলিপস। তাঁর মতে, বিচার আর নিন্দার ভয়েই অনেকে মুখ খুলতে চান না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, অনেক খ্রিস্টানই তাঁর আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন বিশেষ করে তিনি যেহেতু ঐতিহ্যগত খ্রিস্টান নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি মেলাতে চান না।

ফিলিপস স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি নিজেকে ‘প্রথাগত খ্রিস্টান’ বলে দাবি করছেন না। গর্ভপাতের অধিকার ও সমলিঙ্গ বিবাহের পক্ষে তাঁর অবস্থান তিনি লুকোননি। “কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি খ্রিস্টান হতে পারি না,” বলেন তিনি। “আমি শুধু চাই খ্রিস্টান সমাজ আমাকে গ্রহণ করুক। প্রত্যেকের ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক আলাদা, ব্যক্তিগত।”

এই বক্তব্যই মূলত বিতর্কের কেন্দ্রে। একাংশ বিশ্বাসীর মতে, ঐতিহ্যগত খ্রিস্টান শিক্ষার সঙ্গে বিপরীত  মত ও আচরণ বজায় রেখে ব্যাপ্টিজম-এর  তাৎপর্য ক্ষুণ্ন হয়। অন্যদের চোখে, এই ঘটনাই দেখায় অনুগ্রহ ও শিষ্যত্বের মধ্যে টানাপোড়েন, যেখানে বিশ্বাসের পথ সবসময় সরল বা নিখুঁত হয় না।

ফিলিপস জানান, আগামী দিনে তিনি ধর্মকে জীবনে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চান। ঘন ঘন ভ্রমণের কারণে নিয়মিত চার্চে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে প্রার্থনা বা ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরকে খোঁজা তিনি বন্ধ করেননি। তাঁর পরিবার বরাবরই ধর্মপ্রাণ, এবং তাঁর ব্যাপ্টিজম-এ তারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলেও জানান তিনি, যদিও পরিবার খুব সক্রিয়ভাবে চার্চের সঙ্গে যুক্ত নয়।

এই ব্যাপ্টিজম ঘিরে জনপ্রতিক্রিয়া তীব্রভাবে বিভক্ত। অভিনেতা ও সমাজমাধ্যমে সক্রিয় রাসেল ব্র্যান্ড যিনি নিজেও ২০২৪ সালে ব্যাপ্টিজম নিয়েছেন ফিলিপসের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “Thank God।” ব্র্যান্ড আগেও ফিলিপসের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন, “তুমি ঈশ্বরের সন্তান। তুমি বিশেষ, তুমি পবিত্র। তোমার জীবন সম্মান ও যত্ন পাওয়ার যোগ্য।” তিনি ফিলিপসকে তাঁর “মূল্যবান আত্মা ও আত্মিক সত্তা” চিনতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, সমালোচনাও কম নয়। খ্রিস্টান ভাষ্যকার জন রুট এই ব্যাপ্টিজমকে ‘লোক দেখানো’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর মতে, ফিলিপসের জীবনে প্রকৃত অনুতাপ বা আত্মিক রূপান্তরের কোনও  স্পষ্ট লক্ষণ নেই। রুট লেখেন, “বর্তমানে যিশু খ্রিস্টে উদ্ধারপ্রাপ্ত বিশ্বাসের কোনও  ফল আমি দেখতে পাচ্ছি না।” তিনি ফিলিপসের পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে থাকা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্যাপ্টিজমমের কারণ হিসেবে সরাসরি যিশুর নাম না নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, “ঈশ্বর যে কাউকেই উদ্ধার করতে পারেন,” তবু তাঁর মতে, খ্রিস্টধর্ম আজকাল অনেক সময় পবিত্রতার আহ্বান না হয়ে ব্র্যান্ডিং টুলে পরিণত হচ্ছে।

এই বিতর্কে বারবার উঠে আসছে অন্য প্রাক্তন পর্ন তারকাদের উদাহরণ, যাঁরা ধর্মান্তরের পর সম্পূর্ণভাবে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দিয়েছেন। ব্রিটনি ডি লা মোরার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। পর্ন জগৎ ছাড়ার পর তিনি খ্রিস্টধর্মে গভীরভাবে যুক্ত হন এবং পরে স্বামীর সঙ্গে মিলে XXXChurch নামের একটি মন্ত্রকের  দায়িত্ব নেন, যার লক্ষ্য মানুষকে পর্ন আসক্তি থেকে বের করে আনা। সম্প্রতি জেনা জেমসনও নিজের ব্যাপ্টিজমের ঘোষণা করে  বলেন, তিনি ‘পক্ষ বদলাচ্ছেন’ এবং তাঁর অতীত পাপপূর্ণ জীবন ছেড়ে যিশুর পথে চলতে চান।

লিলি ফিলিপসের গল্প অবশ্য এখনও খোলা প্রশ্ন হয়েই রয়ে গেছে। এই বাপ্তিস্ম কি এক গভীর আত্মিক জাগরণের সূচনা, না কি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কের চাপে ম্লান হয়ে যাবে তার উত্তর দেবে ভবিষ্যৎই। খ্রিস্টান সমাজের একাংশের কাছে এই ঘটনা আবার মনে করিয়ে দেয় বাইবেলের সেই অস্বস্তিকর সত্যকে অনুগ্রহ বিনামূল্যে দেওয়া হয়, কিন্তু খ্রিস্টকে অনুসরণ করতে গেলে শেষ পর্যন্ত শুধু সাক্ষ্য নয়, জীবনের রূপান্তরই আসল পরীক্ষা।