পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের রান্নার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়।
2
8
এই পরিস্থিতিতে তেল সংস্থাগুলি আপাতত নতুন করে এলপিজির ডবল সিলিন্ডার সংযোগ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের বলা হয়েছে, গ্রাহকরা দ্বিতীয় সিলিন্ডারের আবেদন করলেও আপাতত তা মঞ্জুর না করতে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যাতে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট না তৈরি হয়, সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে এখন একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, তাদের আপাতত সেটি দিয়েই কাজ চালাতে হবে।
3
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ভারতে আসা তেল ও গ্যাসের অধিকাংশ জাহাজকেই এই সংকীর্ণ জলপথ পেরিয়ে আসতে হয়। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
4
8
ভারতের এলপিজি ব্যবস্থাই এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়। এর অধিকাংশই আসে Qatar ও Saudi Arabia–সহ উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। সরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ দেরিতে পৌঁছালে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
5
8
এই আশঙ্কার জেরেই অনেক জায়গায় মানুষ আগেভাগে সিলিন্ডার বুকিং শুরু করেছেন। বিভিন্ন শহরের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ফলে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার তাই সাধারণ মানুষকে অযথা মজুত না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
6
8
এদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পেট্রল পাম্পগুলিতেও ভিড় বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কায় গাড়ির ট্যাঙ্ক ভর্তি করে নিচ্ছেন। তবে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, আপাতত তেলের জোগান কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
7
8
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জলপথেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০০টি আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Shipping Corporation of India–র একাধিক জাহাজও সেখানে আটকে পড়েছে, যেগুলিতে প্রায় আট লক্ষ টন কার্গো বহনের ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া চেন্নাইয়ের সানমার গ্রুপের সংস্থা Sanmar Shipping–এর কয়েকটি জাহাজও ওই অঞ্চলে আটকে রয়েছে।
8
8
ভারতীয় নৌপরিবহন মহলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ও গ্যাস ক্যারিয়ার পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে এবং সেগুলিতে প্রায় ৪০০ ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। মোট ৩৫টিরও বেশি ভারতীয় জাহাজ বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।পরিস্থিতি কতদিন চলবে তার উপরই নির্ভর করছে জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এলপিজি থেকে পেট্রল–ডিজেল—সব ক্ষেত্রেই দাম ও সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।