আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে হত্যার পরিকল্পনা অনেক আগেই করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার একটি ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই নেতানিয়াহু খামেনেইকে হত্যার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন।

কাটজ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিত বদলে যায়। বিক্ষোভের ফলে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অভিযানের সময় এগিয়ে আনা হয়। গত শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই ইজরায়েলি হামলায় খামেনেই নিহত হন।

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বিশেষ আলোচনার মাধ্যমেই এই যৌথ সামরিক রূপরেখা তৈরি হয়। ইসরায়েল প্রথমে একা এই হামলার কথা ভাবলেও, পরে আমেরিকার সঙ্গে লক্ষ্য স্থির ও কৌশলগত পরিকল্পনা ভাগ করে নেয়। পরিকল্পনার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানান নেতানিয়াহু। কারণ, ইজরায়েল আশঙ্কা করছিল যে, ইরানের হাতে পরমাণু এবং ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চলে এলে যে কোনও সময় তাদের উপর হামলা হতে পারে। তাদের অস্তিত্ব সঙ্কট দেখা দিতে পারে। তাই সমস্যাকে উপরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ইরানে চলতে থাকা অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তেহরান যাতে ইজরায়েল বা পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর আগাম কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাটজ স্পষ্ট করেন, এবারের অভিযানের শক্তি আগের তুলনায় তিন গুণ বেশি। ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য হল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা ধুলিস্যাৎ করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সাহায্য বন্ধ করা।

ইরানে শাসক বদল প্রসঙ্গে কাটজ বলেন, “আমরা চাই ইরানিরা নিজেরাই তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করুক এবং এই স্বৈরাচারf শাসনের পতন ঘটাক। আমরা শুধু সেই পথ প্রশস্ত করছি।” 

যদিও যুদ্ধ কতদিন চলবে বা এটিই শেষ লড়াই কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে তিনি আশাবাদী যে, এই অভিযানের ফলে ইরান আর কখনওই ইজরায়েলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না।