ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া কান্না আর আকাশে বারুদের গন্ধ- এই এখন ইরানের চেনা ছবি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়।
2
11
আজ শুক্রবার সপ্তম দিনে পা দিল এই বিধ্বংসী সংঘাত। যত সময় যাচ্ছে, লাশের পাহাড় আর ধ্বংসের চিহ্ন ততই প্রকট হচ্ছে ইরানের শহরগুলিতে।
3
11
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে হাতে আসা বিশেষ তথ্য ও ছবি বলছে, ইরানের অবস্থা এখন শোচনীয়। সাত দিনের যুদ্ধে অন্তত ২,১১৪ থেকে ২,৬৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১,১১৪ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
4
11
আরও প্রায় ৯০০ জনের মৃত্যুর খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নন, ইরানের সেনাবাহিনীরও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার জওয়ান এবং ৪৮ জন পদস্থ সামরিক ও সরকারি কর্তা এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।
5
11
তেহরান থেকে শুরু করে ইসফাহান, শিরাজ, মাশহাদ বা তাবরিজ- ইরানের অন্তত ১৬টি বড় শহর এখন কার্যত শ্মশান। ইজরায়েলি ও মার্কিন বিমান হানায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে একের পর এক আবাসন। রাস্তায় পড়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া গাড়ির কঙ্কাল। লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি, কিন্তু তার ঘা এসে লেগেছে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটিতেও।
6
11
পিছু হঠতে রাজি নয় ইরানও। গত ছয় দিনে তারা অন্তত ৬০০ মিসাইল এবং ২,২০০-র বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তাদের নিশানায় শুধু ইজরায়েল নয়, রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলিও, যেখানে মার্কিন সেনার ঘাঁটি রয়েছে।
7
11
এমনকী আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর ওপর হামলার চেষ্টাও চালিয়েছে তেহরান। সব মিলিয়ে যুদ্ধের আগুন এখন গোটা মধ্য এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
8
11
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর বদলা নিতে সোমবার থেকে যুদ্ধে জড়িয়েছে হিজবুল্লা। এর ফলে ইজরায়েলি হানায় লেবাননেও মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সেখানে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৈরুত ছাড়তে মরিয়া হাজার হাজার মানুষ এখন প্রাণ হাতে করে পালাচ্ছেন।
9
11
আলোচনার রাস্তা আপাতত বন্ধ। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কোনও যুদ্ধবিরতি চান না। অন্য দিকে, ইজরায়েলি সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি, এবার ‘পরবর্তী ধাপের’ লড়াই শুরু হবে।
10
11
শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের ধাক্কায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার খবরও মিলছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ন্যাটো।
11
11
আপাতত শান্তির কোনও আলো দেখা যাচ্ছে না। বরং এক অনিশ্চিত আগামীর দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
সব ছবি সংগৃহীত।