আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্ণাটকের কোডাগু জেলার মাদিকেরি এলাকায় এক তরুণের একাধিক মহিলার সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে মাদিকেরি রুরাল পুলিশ অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে বলে কন্নড় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মহম্মদ সাভাদ। তিনি বেঙ্গালুরুর একটি নামী কলেজে বিবিএ (BBA) পড়াশোনা করছেন। অভিযোগ, সাভাদ তাঁর মোবাইল ফোনে কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। পরে সেই ভিডিওগুলো অজ্ঞাত সূত্রে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব দ্রুত কোডাগু জেলাজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে জানা যায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া কয়েকজন তরুণী কোডাগুর কিছু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। ফলে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

কন্নড় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথমদিকে পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করতে পারেনি। কারণ ভিডিওতে জড়িত কোনও তরুণী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করতে সামনে আসেননি। তবে পরে কোডাগু ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভাপতি প্রসন্ন ভট্ট মাদিকেরি রুরাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সাভাদকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভিডিওগুলো ফাঁস করার পেছনে অভিযুক্ত সাভাদের সরাসরি ভূমিকা নাও থাকতে পারে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তিনি নিজে ভিডিওগুলো রেকর্ড করলেও সেগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অন্য কারও ভূমিকা থাকতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যাঁরা ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের কয়েকজনকে নাকি সাভাদের ঘনিষ্ঠরা মারধরও করেছে। তবে এই তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনাটিতে ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টিও জনরোষের একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠায় পুলিশ পুরো বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করছে।

এদিকে এই ঘটনা সামনে আসার পর কর্ণাটকে সাম্প্রতিক আরেকটি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি কর্ণাটক পুলিশের শীর্ষকর্তা রামচন্দ্র রাও, যিনি ডিরেক্টরেট অব সিভিল রাইটস এনফোর্সমেন্টের প্রধান ছিলেন, তাঁকেও একাধিক আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে বড় বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁর সরকারি দপ্তরের ভেতর কয়েকজন মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও ওই আইপিএস কর্মকর্তা দাবি করেন, ভিডিওগুলো বিকৃত বা ‘মরফড’ এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবু বিতর্কের জেরে কর্ণাটক সরকার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। দুটি ঘটনাই কর্ণাটকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, মাদিকেরির ঘটনায় কারা ভিডিও ফাঁস করেছে এবং এর পেছনে কোনও সংগঠিত চক্র আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।