ভারতে আসন্ন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী বা “সুপার এল নিনো” পরিস্থিতির প্রভাব এবছরের বর্ষায় পড়তে পারে।
2
11
ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে দেশের কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়।
3
11
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের সঞ্চালন পরিবর্তিত হয় এবং ভারতের মতো মৌসুমি বৃষ্টিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে বর্ষার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
4
11
“সুপার এল নিনো” বলতে বোঝানো হয় এই প্রক্রিয়ার অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ, যা অতীতে ভারতের বর্ষায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে।
5
11
আবহাওয়া দফতরের প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টিতে স্বাভাবিকের তুলনায় ঘাটতি দেখা যেতে পারে।
6
11
বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। যদিও এখনই নিশ্চিতভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন, তবুও এই সম্ভাবনা কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
7
11
ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি এখনও বৃষ্টিনির্ভর। ফলে বর্ষা দুর্বল হলে ধান, ডাল, তৈলবীজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।
8
11
এতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে, যা শহর ও গ্রাম—উভয় অর্থনীতিতেই চাপ সৃষ্টি করবে। কৃষকদের আয় কমে গেলে গ্রামীণ চাহিদাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
9
11
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব সবসময় একরকম হয় না। ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা, স্থানীয় আবহাওয়া প্যাটার্ন এবং অন্যান্য জলবায়ুগত উপাদান বর্ষার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে একাধিক ফ্যাক্টরের উপর। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
10
11
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। খরা সহনশীল ফসলের প্রচার, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি এবং কৃষি বীমা প্রকল্পগুলিকে আরও কার্যকর করা দরকার। পাশাপাশি, জল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেওয়াও সময়ের দাবি।
11
11
সব মিলিয়ে, সুপার এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের বর্ষা ও কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর থাকবে আবহাওয়ার পরবর্তী আপডেট এবং সরকারের প্রস্তুতির দিকে।