পুজোর সময় প্রদীপ জ্বালানো হয় কেন? প্রদীপশিখার নেপথ্যে ৫ গভীর তাৎপর্য
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩ মে ২০২৬ ১৬ : ৪৭
শেয়ার করুন
1
9
সন্ধে নামতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শঙ্খধ্বনি, ধূপের সুবাস, তুলসীমঞ্চ বা ঠাকুরঘরে জ্বলে ওঠে একটি ছোট্ট প্রদীপ। দীপাবলি, সরস্বতী পুজো, লক্ষ্মীপুজো কিংবা নিত্যদিনের সন্ধ্যারতি— হিন্দুধর্মে প্রদীপ ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ।
2
9
এই ক্ষুদ্র শিখার পেছনে লুকিয়ে আছে এমন গভীর দার্শনিক বার্তা। জেনে নেওয়া যাক প্রদীপ জ্বালানোর পাঁচটি প্রধান অর্থ।
3
9
মনের ভেতরের অন্ধকার বা অজ্ঞানতা দূর করা৷ উপনিষদের সেই অমর প্রার্থনা— “তমসো মা জ্যোতির্গময়” অর্থাৎ “অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে চলো”— এই ভাবনারই মূর্ত রূপ প্রদীপের শিখা।
4
9
হিন্দু দর্শনে বলা হয়, প্রতিটি জীবের মধ্যে রয়েছে এক চিরন্তন আলো— ‘আত্মজ্যোতি’। বাইরের প্রদীপ আসলে সেই অন্তরের আলোকেই মনে করিয়ে দেয়।
5
9
প্রদীপের শিখা সবসময় ঊর্ধ্বমুখী— শাস্ত্র বলে, মানুষেরও উচিত উচ্চতর আদর্শ ও জ্ঞানের দিকে এগিয়ে চলা। প্রতিদিন প্রদীপ জ্বেলে যিনি ধ্যান করেন, তাঁর মন ক্রমশ শান্ত ও বিকশিত হয়।
6
9
বৈদিক ঐতিহ্যে অগ্নি— দেবতা ও মানুষের মধ্যে দূত। প্রদীপের শিখায় সেই অগ্নির বাস। ভক্তের প্রার্থনা, নৈবেদ্য, মনের ইচ্ছা— সবই প্রদীপের শিখা বহন করে নিয়ে যায় দেবতার কাছে। তাই প্রতিটি পুজো শুরু হয় দীপ প্রজ্বলনে।
7
9
প্রদীপের শিখা যেমন তেল ও সলতেকে নিজের মধ্যে দহন করে আলো ছড়ায়, তেমনই ভক্তেরও উচিত নিজের অহং ও স্বার্থপরতাকে পুড়িয়ে অন্যের জীবন আলোকিত করা৷
8
9
দেবতার সামনে প্রদীপ জ্বালানোর অর্থ নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করা— বলা, “প্রভু, আমার অহংকার পুড়ে যাক, থেকে যাক শুধু তোমার আলো।”
9
9
কালিকা পুরাণমতে, পুজোয় প্রদীপ জ্বাললে চারটি পুরুষার্থ— ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ— সবই অর্জিত হয়।