আজকাল ওয়েবডেস্ক: বছরের পর বছর ধরে চলা শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেল এবং চরম অপমানের বদলা নিতে নিজের লিভ-ইন পার্টনারকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। উত্তর প্রদেশের বিজনোরে গত ২৯ এপ্রিল সকালে জুলাইপুর গ্রামের কাছে একটি জঙ্গল থেকে অনুজ কুমার নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যখন অনুজের লিভ-ইন পার্টনার শোভা রানিকে জেরা শুরু করে, তখনই বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা কাহিনি।

পুলিশের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে শোভা জানান, ২০১১ সালে সত্যেন্দ্র নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের একটি ১০ বছরের মেয়েও রয়েছে। ২০২৩ সালে স্বামীর থেকে আলাদা হওয়ার পর ২০২৪ সালে অনুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু সেই ভালোবাসার সম্পর্ক দ্রুতই বিভীষিকায় পরিণত হয়। শোভার অভিযোগ, অনুজ তাঁকে নিয়মিত মারধর ও যৌন হেনস্থা করত। এমনকি তাঁর আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত টাকা দাবি করত অনুজ। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই জুটত অকথ্য নির্যাতন।

নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, অনুজ শোভার ১০ বছরের নাবালিকা মেয়ের ওপরও কুনজর দিতে শুরু করেছিল। এর আগে শোভার ছোট বোনকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে জেলেও যেতে হয়েছিল অনুজকে। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে এসে তার স্বভাব বদলায়নি। গত ২৮ এপ্রিল রাতে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। অভিযোগ, অনুজ শোভাকে প্রথমে একটি ক্যাফেতে এবং পরে গ্রামের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে মারধর ও ধর্ষণ করে।

অসহ্য যন্ত্রণায় শোভা প্রথমে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর মনে পড়ে যায় ছোট্ট মেয়েটির কথা। তাঁর অবর্তমানে মেয়েটির কী হবে, সেই আতঙ্ক থেকেই তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সুযোগ বুঝে অনুজের কাছে থাকা দেশি পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পর পর গুলি করেন শোভা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অনুজের। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে এবং শোভাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিজনোরের গ্রামীণ পুলিশ সুপার প্রকাশ কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক মহিলার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।