আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলদ জানা গিয়েছে। মূল অভিযুক্ত এক বাবা। সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি তাঁর নিজের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তরুণী সম্প্রতি ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সী তরুণীর এহেন চরম পরিণতিতে চমকে উঠেছে গোটা দেশ। 

ঘটনার জেরে ডান্তা বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন নালা জানান, 'সে কয়েক মাস আগে নিট ( NEET ) পরীক্ষা দিয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, সে ভালো নম্বর পেয়েছে। তবে সে ডাক্তার হতে চেয়েছিল, না নার্স—তা এখনও নিশ্চিত নয়।' NEET পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ওই তরুণী পালানপুর শহরে চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় হরেশ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে, যাঁর সঙ্গে তিনি পরে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু জানা গিয়েছে, তরুণীর পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি, বরং তাঁকে অন্যত্র বিয়ে দিতে চেয়েছিল।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, প্রথমে তরুণীর মৃত্যু স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। এরপরই কাহিনি অন্যদিকে মোড় নেয়। তরুণীর প্রেমিক হরেশ চৌধুরী ৬ আগস্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে যে, তরুণীকে তাঁর বাবা সেন্ধাভাই পটেল ও দুই চাচা- শিভরামভাই পটেল এবং নারাণ পটেল মিলে ২৪ জুন রাতে হত্যা করে। এরপর ২৫ জুন সকালে তাঁর সৎকারও সম্পন্ন করা হয়।

হরেশ চৌধুরী পুলিশের কাছে জানান, তাঁর প্রেমিকা তাঁকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিল, যাতে লেখা ছিল: 'এসো আমাকে নিয়ে যাও, না হলে আমার পরিবার আমাকে জোর করে বিয়ে দেবে। আমি যদি রাজি না হই, তাহলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে বাঁচাও।' এই বার্তা তরুণীর জীবনের আশঙ্কার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

হরেশ ইতিমধ্যে বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। জানা যায়, থারাড শহর থেকে পালানপুর যাওয়ার পথে হরেশ তাঁকে লিফট দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে তরুণী হরেশের বৈবাহিক অবস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসে দুজন মিলে আহমেদাবাদ পালিয়ে যান এবং সেখানে সাময়িকভাবে একটি লিভ-ইন রিলেশনশিপের আইনি চুক্তিও সই করেন। তবে পরবর্তীতে ১২ জুন থারাড থানার পুলিশ ও মেয়েটির আত্মীয়রা তাঁদের রাজস্থানের একটি হোটেল থেকে খুঁজে বের করেন। হরেশকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গিয়েছে জেলে থাকাকালীন হরেশ তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভুক্তভোগীর দুটি মেসেজ দেখতে পান। সেগুলির একটি ছিল ১৭ জুনে করা। তাতে তরুণী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। এরপর হরেশ একজন আইনজীবীর সাহায্য নেন এবং গুজরাট হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস করপাস পিটিশন দায়ের করেন যাতে তরুণীকে আদালতে হাজির করার আবেদন জানানো হয়।

কিন্তু এরপর শুনানির মাত্র দুই দিন আগে, ২৫ জুন হরেশ জানতে পারেন তরুণীর মৃত্যু হয়েছে ২৪ জুন রাতেই । এর পরেরদিন সকালে তাঁর শেষকৃত্যও সম্পন্ন হয়েছে।

এই নির্মম ঘটনাটি গুজরাটের স্থানীয়দের কাছে গভীর প্রশ্ন তুলেছে মহিলা স্বাধীনতা নিয়ে। ‘সম্মান’-এর নামে সহিংসতা এবং পরিবারের চাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। 

বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ চলছে।