ভারতে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের উপর ন্যূনতম ব্যালান্স না রাখার কারণে বিপুল অঙ্কের জরিমানা আদায়ের ঘটনা নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। গত তিন বছরে এই খাতে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাঙ্কগুলি, যা নিয়ে সংসদে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট সঞ্চয়ের গ্রাহকদের উপর এই আর্থিক চাপ কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
2
9
সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তিনি বলেন, “১৯,০০০ কোটি টাকা—এটাই ব্যাঙ্কগুলি গত তিন বছরে আদায় করেছে শুধুমাত্র ‘মিনিমাম ব্যালান্স’ না রাখার জন্য। এটা ধনীদের থেকে নয়, বড় ঋণগ্রহীতাদের থেকেও নয়—এই টাকা এসেছে সবচেয়ে সাধারণ ও দরিদ্র গ্রাহকদের কাছ থেকে।”
3
9
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সংসদে যে তথ্য দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে মোট ১৯,০৮৩ কোটি টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ৮,০৯২.৮৩ কোটি টাকা আদায় করেছে, আর বাকি অংশ এসেছে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে। অর্থাৎ, এই চার্জ থেকে দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে, তবে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির অংশ বেশি।
4
9
এই জরিমানার প্রভাব যে সাধারণ মানুষের উপর পড়ছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন চাড্ডা। তাঁর কথায়, “একজন কৃষক ন্যূনতম ব্যালান্স রাখতে না পারলে জরিমানা। একজন পেনশনভোগী ওষুধের জন্য টাকা তুললে জরিমানা। একজন দিনমজুর কয়েকশো টাকা কম থাকলেও জরিমানা।” ফলে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার উদ্দেশ্য—যেখানে মানুষের সঞ্চয় নিরাপদ রাখা—সেই জায়গাতেই প্রশ্ন উঠছে।
5
9
তিনি আরও বলেন, “গরিব মানুষ ব্যাঙ্কে টাকা রাখেন নিরাপত্তার জন্য, গোপনে জরিমানা দেওয়ার জন্য নয়।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ধরনের চার্জ আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
6
9
এই প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম ব্যালান্স সংক্রান্ত নিয়ম পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে ছোট সঞ্চয়কে সুরক্ষা দিতে হবে, শাস্তি নয়। এমনকি এই জরিমানা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও সামনে এসেছে।
7
9
বর্তমানে আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কগুলি নিজেরাই ন্যূনতম ব্যালান্সের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট চার্জ নির্ধারণ করতে পারে। তবে ‘বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট’ বা জিরো-ব্যালান্স অ্যাকাউন্টে এই ধরনের জরিমানা প্রযোজ্য নয়।
8
9
এই বিষয়টি নতুন নয়—এর আগেও একাধিকবার এই চার্জ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলির যুক্তি, এই ধরনের ফি অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এতে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে।
9
9
সব মিলিয়ে, ন্যূনতম ব্যালান্স সংক্রান্ত জরিমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ কমে এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।