আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় চলা যুদ্ধের আবহে দেশে রান্নার গ্যাসের জোগানে টান। বিশ্বব্যাপী আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র যে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করছে, মঙ্গলবার বোম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চকে তা জানাল মোদি সরকার। একই সঙ্গে সরকারি এই প্রচেষ্টার ওপর আদালতকে আস্থা রাখারও আর্জি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি অনিল এস কিলোর এবং বিচারপতি রাজ ডি ওয়াকোডের ডিভিশন বেঞ্চে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব রকম চেষ্টা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই মুহূর্তে সব কথা খোলসা করা সম্ভব নয়। তবে দেশের বাজারে যাতে গ্যাসের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।

কেন্দ্রের এই আশ্বাসের পরেই ওমকার সেলস-সহ ছয় এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের দায়ের করা একটি মামলার নিষ্পত্তি করল আদালত। উল্লেখ্য, ওই ডিস্ট্রিবিউটরদের অভিযোগ ছিল- দেশের মানুষের প্রয়োজন উপেক্ষা করে এলপিজি বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এর আগে শুনানিতে আদালত বিষয়টিকে ‘গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছিল। কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থা ‘সিপিআইএল’-কেও নোটিস পাঠানো হয়েছিল।

মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলের ওই ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, যুদ্ধের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় স্থানীয় স্তরে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ঘরোয়া গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর সরকারি নির্দেশিকা থাকলেও, বিশ্ববাজারে চড়া দামের সুযোগ নিতে এক শ্রেণির সংস্থা বিদেশে গ্যাস পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

আবেদনকারীরা আরও জানান, গত মার্চ মাসেই ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, উৎপাদিত গ্যাস সবার আগে দেশের গ্রাহক ও  সংস্থাগুলিকে দিতে হবে। ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, সেই নিয়ম না মেনেই বিদেশে রপ্তানি চালানো হচ্ছে।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থা সিপিআইএল। তাদের দাবি, তারা কোনও নিয়ম ভাঙেনি, বরং আগের চুক্তি অনুযায়ীই রপ্তানি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে চলা এই সমস্যা সরকার কূটনৈতিকভাবে সামাল দিচ্ছে। স্থানীয় কোনও সমস্যা হলে রাজ্য প্রশাসন তা দেখতে পারে। কেন্দ্রের এই বক্তব্যে ভরসা রেখেই মামলা শেষ করল আদালত।