অরিন্দম মুখার্জী: চলন্ত গরিব রথ ট্রেনে দুই শিশুর সামনে মায়ের মৃত্যু। শুক্রবার দুপুরবেলায় গরিব রথ ট্রেনের মধ্যে সালমা খাতুন নামে এক মহিলার আচমকা শরীরে অস্বস্তি হতে থাকে। মহিলার বাড়ি বিহারের ছাপরা জেলায়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই মহিলার যখন শরীর খারাপ হতে থাকে ট্রেনের ভেতরেই সেই মুহূর্তে তিনি ছটফট করতে থাকেন। সেই দেখে তাঁর পরিবারের লোকজন ট্রেনের ভেতরে কর্মরত রেল কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে জানান। কিন্তু সেই মুহূর্তে রেল কর্মীরা অসুস্থ মহিলাকে কোনও সুবিধা দিতে পারেননি। 

 

গরিব রথ ট্রেনে করে দিল্লি থেকে বিহারের সরণ জেলার অন্তর্গত শিবপুরা নামের একটি জায়গায় সপরিবারে ফিরছিলেন মহিলা। মহিলার স্বামী ওই পরিস্থিতিতে রেল কর্মীকে জানানোর পর, ১০৮ রেলের নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্সে খবর পাঠান। ১০৮ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর দ্রুত স্টেশনে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়। কিন্তু সিগন্যাল না পাওয়ার জন্য পথে অনেকক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে যায়। ততক্ষণে ট্রেনের মধ্যে সালমা খাতুনের আকস্মিক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ফলে যাত্রীরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। মহিলার মৃত্যুর জন্য রেলকেই দায়ী করেন সকলে। 

 

ট্রেনটি পিতাবপুর স্টেশনে থামার পর ক্ষিপ্ত জনতা বিক্ষোভ দেখান। কর্মরত রেলের কর্মচারীদের ধাক্কাধাক্কি দিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। এরপর আরপিএফ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে আসে। ক্ষুব্ধ যাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করে তারা। আধা ঘণ্টা পরে গরিব রথ ট্রেনটি আবার গন্তব্যস্থলে পৌঁছনোর জন্য রওনা দেয়। 

 

মৃতার স্বামী হার্দিস আনসারী দিল্লিতে এক কাপড়ের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। ৩৬ বছর বয়সি সালমা খাতুন এবং সঙ্গে দুই মেয়েকে নিয়ে গরিব রথ ট্রেনে করে ছুটি কাটাতে বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু ট্রেনটি বারেলি স্টেশন ছাড়ার পর থেকে সালমা খাতুনের শরীর খারাপ হতে থাকে। ট্রেনের শৌচালয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। সালমাকে ওই অ্যাম্বুল্যান্সে করে ফরিদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আরপিএফ ময়নাতদন্তের জন্য জিআরপিকে দেহ হস্তান্তর করে।