আজকাল ওয়েবডেস্ক: রক্তদান মহৎ দান। তাই জনগণকে যতো বেশি স্বেচ্ছায় রক্তদান সম্পর্কে সচেতন করা যাবে ততো বেশি রক্তদানের মতো কর্মসূচি বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে রক্তদান ও রক্ত ব্যবহারের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
রবিবার প্রজ্ঞাভবনে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উল্লেখ্য, বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের এবছরের থিম হলো: 'এক ফোটা মানবতা, রক্ত দাও জীবন বাঁচাও'।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রক্তদানে রক্তদাতা নিজেও স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পান। রক্তদান সহ যে কোনও দানের ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রক্তদান ও রক্ত ব্যবহারের মধ্যে একটা ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ১৪টি ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালগুলিতেও রক্তকণিকা সেপারেশন সেন্টার রয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে রেফারেল রোগীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। রাজ্যে বর্তমানে সাফল্যের সহিত কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও আধুনিক করা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যে চিকিৎসা বিদ্যার পরিসরও বেড়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৫৫০টি এমবিবিএস-এর আসন রয়েছে এবং পিজি কোর্সে প্রায় ২০০টি আসন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী ৪৮ জন রক্তদাতাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। এছাড়াও তিন থেকে চার বার রক্তদান করেছেন এমন ৭ জনকে সংবর্ধিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন স্বাস্থ্য সংবাদ-এর আবরণ উন্মোচন করেন।
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ বিশিষ্টজনেরা রক্ত শ্রেণিবিন্যাসের জনক ডা. কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা ব্লাড ট্রান্সপ্ল্যান্ট সোসাইটির সচিব ডা. বিশ্বজিৎ দেববর্মা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা ও রেডক্রস সোসাইটির ত্রিপুরা শাখার সভাপতি বি. কে. রায়।















