আজকাল ওয়েবডেস্ক: আদালতকক্ষের ভেতরে একদিকে দাঁড়িয়ে স্বামী, বাবা-মা, অন্যদিকে প্রেমিক। ভরা এজলাসে ১৯ বছর বছরের তরুণী এমন এক সিদ্ধান্ত নিলেন, যা তাঁর বাকি জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিল। তরুণী আদালতকে বললেন, "আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক। আমার জীবনের সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নেব। আমি আমার স্বামী কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে চাই না। নিজের ইচ্ছাতেই আমি প্রেমিকের সঙ্গে বসবাস করছি।" 

তরুণীর কথায় সম্মতি জানালেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চ।

প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল এই তরুণীর। স্বামী অবধেশ অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীকে নাকি জোর করে আটক করে রেখেছে অন্য এক যুবক- অনুজ কুমার। তিনি আদালতে পিটিশন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মেয়েটিকে খুঁজে পায় এবং ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’-এ  রাখে, পরে আদালতে তরুণী হাজিরা দেয়।

আদালত যখন জানতে চায় তিনি কী চান, তখন তরুণী স্পষ্ট বলেন,তাঁর স্বামী ২১ বছরের বড়। বয়সের ব্যবধান অনেকটা। এই দাম্পত্যে মানসিক কষ্টে রয়েছেন বলেও তুলে ধরেন তরুণী। জানান, স্বামীর কাছে তিনি আর ফিরতে চান না। তিনি নিজের ইচ্ছেতেই প্রেমিক অনুজের সঙ্গে থাকতে চান। 

এজলাসে স্বামী একটুও ইতস্তত বোধ না করে মা, বাবা, প্রেমিক, সকলের সামনেই  নিজের ইচ্ছের কথা তুলে ধরেন তরুণী। নিজের সিদ্ধান্তে তিনি অটল বলেও দাবি কেরছিলেন। জানিয়েছিলেন যে, প্রেমিক অনুজ কুমারের সঙ্গেই বসবাস করতে আগ্রহী তিনি।

আদালত কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাতেও তরুণীর সিদ্ধান্তের বদল হয়নি। এরপরই বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র যাদবের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা প্রেমিকও আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি ওই তরুণীর যত্ন নেবেন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
এরপর আদালত তরুণীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়।

আদালত জানিয়ে দেয় যে, একবার যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে তিনি অবৈধ আটকে নেই, তখন পিটিশনটির মূল ভিত্তিই আর অবশিষ্ট রইল না।

ছয় মাস ধরে নজরদারির নির্দেশ
মামলাটির নিষ্পত্তি করার আগে, আদালত এতে বাড়তি নজরদারির একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ছয় মাস ধরে, "শৌর্য দিদি" নামে পরিচিত নির্দিষ্ট কর্মকর্তারা ওই তরুণীর নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ওই তরুণীকে 'ওয়ান-স্টপ সেন্টার' থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়
শুনানি চলাকালীন উঠে আসে সম্প্রতি দেওয়া এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ও। যেখানে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের সম্মতিতে সহবাস আইনত কোনও অপরাধ নয়। আদালত জানিয়েছিল, নৈতিকতা ও আইনের বিচার এক নয় - সমাজের মতামত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।