আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ, তার জেরে জ্বালানি সংকট আতঙ্কে ভুগছে ভারত। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর মুখে বর্তমান অবস্থান সঙ্গে লকডাউন পরিস্থিতির কথা শোনা গিয়েছে। যা নিয়ে আরও দুঃশ্চিন্তায় দেশবাসী। চলছে চর্চা। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরী। তাঁর ঘোষণা, দেশব্যাপী লকডাউনের গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেন্দ্রীয় সরকার লকডাইনের মতো পদক্ষেপের কথা এখনই বিবেচনা করছে না।
এক্স' প্ল্যাটফর্মে মন্ত্রী হরদীপ পুরী লিখেছেন, "ভারতে লকডাউনের গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, ভারত সরকারের বিবেচনায় এমন কোনও প্রস্তাব নেই। এই সময়ে আমাদের শান্ত, দায়িত্বশীল এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।"
মধ্য এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি করিডোর 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কিছু পেট্রোল পাম্পে আতঙ্কিতবিরাট লাইন দেখা যায়। এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে ঘাটতির জেরে দেশব্যাপী সম্ভাব্য লকডাউনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পুরী নিশ্চিত করেছেন যে ভারতের জ্বালানি পরিস্থিতি সুরক্ষিত রয়েছে। কারণ জ্বালানি ও তেলের সরবরাহ অটুট রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুরী তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি জি-র নেতৃত্বে, আমাদের নাগরিকদের জন্য জ্বালানি, শক্তি এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।" তিনি আরও বলেছেন যে, ভারত "বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মুখে দৃঢ়তা ও সহনশীলতার" পরিচয় দিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে কাজ করে যাবে।
কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা - উভয় কক্ষেই বক্তব্য রেখেছিলেন। মোদী বলেছিলেন যে নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই; কারণ সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সেই প্রেক্ষিতে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী পুরীর আশ্বাস বেশ তাৎপর্যবাহী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের তেলের মজুদ পরিস্থিতি সুরক্ষিত রয়েছে; কারণ বিগতগত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন তেলের মজুদ গড়ে তুলেছে। তিনি আরও জানান যে, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন কৌশলগত তেলের মজুদও গড়ে তোলা হবে।















