আজকাল ওয়েবডেস্কঃ কেরালায় এলডিএফ-কে সরিয়ে ফের ক্ষমতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ কে পাবেন, তা নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। আর তাতেই ক্ষুব্ধ জোট শরিকরা। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী দল বিজেপিও।

কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে সম্প্রতি ১০২টি আসন জিতে ইউডিএফ জোট ক্ষমতায় ফিরেছে। জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ জোটের কাছ থেকে। কিন্তু এর পর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে কে বসবেন, সে বিষয়ে মনস্থির করতে পারেনি এআইসিসি। ফল ঘোষণার এক সপ্তাহ পরেও নাটকিয়তা অব্যাহত। এ নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দলীয় কোন্দল। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর পদের দৌড়ে রয়েছেন তিন দাবিদার।  বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং রাহুল গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কে সি বেণুগোপাল এবং বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালা। এই তিন নেতার অনুগামীরাই এখন দিল্লিতে শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে কেন্দ্রীয় ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্যরা।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, এই বিলম্বের জন্য ইতিমধ্যে ধৈর্য হারাচ্ছে শরিক দলগুলি। ২২টি আসনে জয়ী জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)। সোমবারই আইইউএমএল-এর মালাপ্পুরম জেলা সাধারণ সম্পাদক পি আব্দুল হামিদ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এআইসিসি-কে। বলেছেন, "সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি মেনে নেওয়া যায় না। এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে।" একইসঙ্গে তিনি এ-ও জানান, সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি মহিলা ভোটাররাও ফোন করে তাঁদের কাছে এই বিলম্বের কারণ জানতে চাইছে। তিনি বলেন,"বিয়েবাড়ি থেকে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান—সব জায়গাতেই এখন একটাই প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী কে?"

অন্য দিকে, নির্বাচনে মাত্র তিনটি আসন পেলেও আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপিও।  কাজাকুট্টম থেকে জয়ী বিজেপি বিধায়ক ভি মুরলীধরণ বলেন, "কংগ্রেস মানুষের রায়কে অপমান করছে। বিপুল জনমত পেয়েও তাঁরা একমত হতে পারছে না। এর থেকেই বোঝা যায় তারা জনকল্যাণ নিয়ে চিন্তিত নয়, বরং ক্ষমতার লোভেই মত্ত।"  তাঁর আরও দাবি, যে সরকারই আসুক না কেন, তার রাশ থাকবে মুসলিম লিগের হাতে।

এ দিকে, দিল্লিতে হাই কমান্ডের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফিরে কেরালায় ফিরেছেন কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালা। তিনি বলেছেন, "আমরা আমাদের বক্তব্য হাই কমান্ডকে জানিয়েছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে এইটুকু দেরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে দল যে সিদ্ধান্তই নেবে, ইউডিএফ-এর কর্মীরা তা মাথা পেতে নেবেন।"