"কিডনিতে পাথর? বিয়ার খেয়ে নাও, পাথর গলে বেরিয়ে যাবে!”— সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান— সর্বত্রই এই ‘টোটকা’ ঘুরছে। অনেকেই দাবি করছেন, বিয়ার নাকি কিডনি-পাথর গলিয়ে দেয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?
2
12
দেশের শীর্ষস্থানীয় ইউরোলজিস্টরা এই দাবিকে স্পষ্টভাবে ‘বিভ্রান্তিকর ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
3
12
কিডনি-পাথর হল ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড ও সিস্টিনের মতো খনিজের জমাট ফলক। জল কম খাওয়া, নুন, প্রোটিন বেশি খাওয়া, স্থূলতা এবং বংশগতি— এই সবই কারণ। তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে।
4
12
বহু শতাব্দী আগে, যখন পরিষ্কার পানীয় জলের অভাব ছিল, ইউরোপীয়রা বিয়ারকেই নিরাপদ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করতেন। মধ্যযুগীয় চিকিৎসায় বিয়ারকে ‘ডাইউরেটিক’ (যা প্রস্রাব বাড়ায়) বলা হতো— সেখান থেকেই বিশ্বাস ছড়িয়েছিল, বিয়ার কিডনির পাথর সারিয়ে দেয়৷
5
12
চিকিৎসকদের মতে, “বিয়ার পান করলে সাময়িকভাবে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। ঠিক যেমন এক গ্লাস জল পান করলে হয়। এই একই উপকার জল বা লেবুর রস থেকেও পাওয়া যায়৷ বিয়ারে থাকে ৫% অ্যালকোহল ও ৯৫% জল। অর্থাৎ কাজে লাগবে না।।
6
12
অ্যালকোহল প্রাথমিকভাবে প্রস্রাব বাড়ায়, কিন্তু পরে শরীর থেকে জল শুষে নেয়। ডিহাইড্রেশন মানে— ঘন প্রস্রাব, যা পাথর গঠনের সবচেয়ে বড় কারণ।
7
12
বিয়ারে রয়েছে অক্সালেট ও পিউরিন— যা ক্যালসিয়াম-অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিড এর মাধ্যমে কিডনিতে পাথর তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে৷
8
12
নিয়মিত মদ্যপানে হজমতন্ত্র, লিভার ও রক্তচাপের ক্ষতি হয়৷ কিডনি-পাথরের চিকিৎসায় দেওয়া ওষুধের সঙ্গে অ্যালকোহলের প্রতিক্রিয়া বিপজ্জনক৷
9
12
প্রতিদিন ২.৫-৩ লিটার জল খেতে হবে৷ সবচেয়ে কার্যকর। প্রস্রাব হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ থাকা উচিত।
সাইট্রেট-যুক্ত খাবার: লেবু, কমলা, পাতিলেবু— এতে থাকা সাইট্রেট পাথর গঠন রোধ করে এবং ছোট পাথর গলাতে সাহায্য করে।
10
12
খাদ্যাভ্যাস: লবণ, অতিরিক্ত প্রোটিন এবং অক্সালেটযুক্ত খাবার (পালংশাক, বিট, বাদাম) কম খেতে হবে৷ অতিরিক্ত চিনি খাবেন না।
11
12
৫ মিমি-র ছোট পাথর: সাধারণত জল ও ওষুধের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে। বড় পাথরে— ESWL (শব্দ-তরঙ্গ চিকিৎসা), ইউরেটেরোস্কোপি বা সার্জারি প্রয়োজন।
12
12
গরমকালে ঘাম বেশি হওয়ায় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে৷ ডাবের জল, লেবু-জল, বার্লির জল— এসব প্রাকৃতিক পানীয় বিয়ারের চেয়ে হাজার গুণ ভাল।