আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত গণতান্ত্রিক জোটের (ইউডিএফ) মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে? জবাব দিতে নাজেহাল কংগ্রেস। তবে প্রকাশ্যে এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছে কৌশলী রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেরা। তবে, কংগ্রেসের তরফে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও দখলে হাত শিবিরের অন্দরের অনেক বিষয়ই খোলসা হয়।
মনে কার হচ্ছে, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধী তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী কে.সি. বেনুগোপালের পক্ষেই সওয়াল করছেন। ওই ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে, রাহুল গান্ধীর ঠিক পাশেই রয়েছেন কে.সি। কেরলের কংগ্রেস মহলে যাঁরা এই ভিডিওটি দেখেছেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, বেণুগোপালের একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে এবং তিনিই হয়তো দলের 'মনোনীত মুখ' হতে চলেছেন। এই প্রবীণ নেতা বর্তমানে দক্ষিণী এই ভোটমুখী রাজ্যে প্রচুর সময় ব্যয় করছেন। তিনি দলের বিদ্রোহী ও অসন্তুষ্ট নেতা, কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ফের দলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কেরলের কংগ্রেস দলে বর্তমানে যে বিভাজন ও অনৈক্য রয়েছে, সেখানে সব নেতাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের অন্যান্য কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যের মতোই, এই রাজ্যেও এক ধরণের প্রচুর বিকল্পের সমস্যা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে অন্তত ছ'জন নেতার নাম অনায়াসেই উল্লেখ করা যায়।
বিধানসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রমেশ চেন্নিতালাও এই দৌড়ে অন্যতম। একইভাবে, বর্তমান বিরোধী দলনেতা ভি.ডি. সতীশনও একজন শক্তিশালী দাবিদার। সতীশনকে বেণুগোপালের বেশ ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা হয়। তাই কংগ্রেস যদি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও সাংসদের পরিবর্তে একজন বিধায়ককে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সতীশনই হতে পারেন সেই উপযুক্ত ব্যক্তি। সেক্ষেত্রে ভি.ডি. সতীশন কেরলের রাজনীতিতেমূলত কে.সি. বেণুগোপালের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।
একসময় শশী থারুরের নামও মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দলের 'হাইকমান্ড' বা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা সমস্যা থাকায়, তিনি কার্যত এই দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছেন। এছাড়া কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি কে. সুধাকরণ এবং কে. মুরালিধরনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্পষ্টতই কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে কংগ্রেস দল আগেভাগে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট নাম ঘোষণা করতে চাইছে না। পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে চরণজিৎ সিং চান্নিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়ে হাত শিবিরের নেতৃত্ব একবার চরম বিপাকে পড়েছিল এবং তার মাশুলও গুনেছিল। সেই নির্বাচনের ফলাফল সবার জানা। যেসব রাজ্যে বর্তমানে নির্বাচন হতে চলেছে, তার মধ্যে একমাত্র কেরলের ক্ষেত্রেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মনে জয়ের ব্যাপারে কিছুটা আশা রয়েছে। তাই আগেভাগে কোনও নাম ঘোষণা করে দিয়ে তারা জয়ের সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে চায় না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যের রাজনীতিতে পিনারাই বিজয়নকে কোনওভাবেই 'বাতিল শক্তি' হিসেবে গণ্য করা চলে না। এমনকি তাঁর কট্টর সমালোচকরাও স্বীকার করেন যে, তাঁর মধ্যে এখনও অদম্য মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াকু মনোভাব অবশিষ্ট রয়েছে। তাঁকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এই মুহূর্তে, বিজয়নের পাল্টা হিসাবে কংগ্রেস কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার ঝুঁকি নেওয়ার অবস্থায় নেই।
আরও বড় সমস্যা হল, ইউডিএফ জয়লাভ করে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিলেও, কংগ্রেসের মাথাব্যথা হয়তো মিটবে না। কেরলে কংগ্রেসের বহু-কেন্দ্রিক বা বহু-মেরু বিশিষ্ট কাঠামোর কথা বিবেচনা করলে, মূল প্রশ্নটি হল - গান্ধী পরিবার কি দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবে? যদি পারে, তবে কতদিন? নাকি কেরলও শেষমেশ কর্ণাটকেরই পুনরাবৃত্তি হবে?














