আজকাল ওয়েবডেস্ক: আম আদমি পার্টির অন্যতম পরিচিত মুখ তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। সম্প্র‍তি তাঁকে সরিয়ে উপ-দলনেতা করা হল অশোক মিত্তলকে। আপের সংসদীয় রাজনীতিতে বড় রদবদল। রাজ্যসভায় দলের উপ-দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো তারকা সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন পাঞ্জাবের শিল্পপতি তথা সাংসদ অশোক মিত্তল। আর এই বদল ঘিরেই আপ-এর অন্দরে ফিসফাস শুরু। ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

দলের তরফে একে ‘স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া’ বলা হলেও বিরোধীরা সুর চড়াতে ছাড়েনি। বিজেপির দাবি, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দূরত্বের কারণেই রাঘবকে ‘কোণঠাসা’ করা হয়েছে। একই সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেসের গলায়। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন অশোক মিত্তল। তিনি জানান, দলে কারও গুরুত্ব কমেনি, বরং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দায়িত্বের অদলবদল হয়েছে মাত্র।

অশোক মিত্তল কে? 

অশোক মিত্তল লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির (এলপিইউ) প্রতিষ্ঠাতা।

পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং আইন স্নাতক।

শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য একাধিক জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন৷ 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই পাঞ্জাব বিধানসভা ভোট। তাই রাজ্যসভায় পাঞ্জাবের দাবিদাওয়া আরও জোরালো করতেই মিত্তলকে সামনে আনা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে অশোক মিত্তল বলেন, "রাঘব ভাই আমাদের সিনিয়র নেতা ছিলেন এবং থাকবেন। আমি শুধু তাঁর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের লক্ষ্য এখন সংসদের উচ্চকক্ষে পাঞ্জাবের বকেয়া পাওনা এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরা।"

প্রসঙ্গত, দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি মামলায় বড় স্বস্তি পান আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীষ শিশোদিয়া সহ একাধিক নেতা। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। কিন্তু এত বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরেও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি রাঘব চাড্ডা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি এ নিয়ে কোনও পোস্ট করেননি, যা দলীয় অন্দরে ও বাইরে কৌতূহল বাড়িয়েছে।

এছাড়াও, সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে। দলীয় কার্যালয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাংবাদিক বৈঠক কিংবা জনতার উদ্দেশ্যে ‘জনসভা’- এইসব গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁকে। বিশেষ করে যন্তরমন্তরে অনুষ্ঠিত জনসভায়, যেখানে কেজরিওয়াল বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, সেখানেও চাড্ডার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনাপ্রবাহ দলীয় অভ্যন্তরে মতভেদের ইঙ্গিত দিতে পারে। যদিও আপ নেতৃত্বের তরফে এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে।

রাঘব চাড্ডা আপের অন্যতম তরুণ এবং পরিচিত মুখ। সংসদে তাঁর সাবলীল বক্তৃতা ও রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে হঠাৎ করে তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, নতুন দায়িত্ব পাওয়া অশোক মিত্তলকে সামনে এনে দল কি নতুন বার্তা দিতে চাইছে, সেটাও এখন দেখার।

সব মিলিয়ে, এই রদবদল আপের অন্দর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে দলীয় অবস্থান ও নেতৃত্বের কৌশলে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।