আজকাল ওয়েবডেস্ক: জলবায়ু সঙ্কটের কারণে দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে আবহাওয়ার পরিবর্তন। কখনও ভারী বৃষ্টি, কখনও আবার তীব্র গরমের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আবহাওয়াকে আরও ভাল করে বুঝতে এবার মিশন মৌসম নামে বিশেষ এক প্রকল্প নিয়ে এল ভারত সরকার। আবহাওয়াকে আরও ভাল করে বুঝতে, আরও নিশ্চিত পূর্বাভাস পেতে এবার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে আবহাওয়া দপ্তর। মিশন মৌসম নামে এই প্রকল্পে কৃত্রিমভাবে পরীক্ষাগারে তৈরি করা হবে মেঘ। মেঘ তৈরির পাশাপাশি প্রায় ১৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হবে রাডারের সংখ্যানতুন উপগ্রহ, সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে পরীক্ষা চালানো হবে আবহাওয়ার বিষয়ে।

 

ভারতের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের মতে, দিনদিন গ্রীষ্মমন্ডলীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। ফলে, সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে হাওয়া অফিসের পক্ষে। এই মিশন মৌসম সফল হলে তা অনেকটাই সহজ হবে বলে আশাবাদী ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রক। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তন বায়ুমণ্ডলকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলছেফলে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা ঘটছে একাধিক এলাকায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির মত ঘটনা ঘটছে দেশে। মন্ত্রকের মতে, এই জটিল প্রক্রিয়া বুঝতে মেঘের ভেতরে এবং বাইরে, পৃষ্ঠে, পরের বায়ুমণ্ডলে, মহাসাগরের পরে এবং মেরু অঞ্চলে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তবেই আগে থেকে পূর্বাভাস বলা যাবে সঠিক ভাবে। আপাতত আগামী পাঁচ বছরের মিশন সম্পর্কে জানানো হয়েছে ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের তরফে।

 

সচিব এম. রবিচন্দ্রন জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের মিশন দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে৷ প্রথম পর্যায় চলবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। যেখানে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে নেটওয়ার্ক পরিষেবা। প্রায় ৭০টি ডপলার রাডার, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার এবং ১০টি উইন্ড প্রোফাইলার এবং ১০টি রেডিওমিটার স্থাপন করবে ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক। দ্বিতীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য স্যাটেলাইট এবং বিমান যোগ করার ওপর ফোকাস করা হবে। জানা গিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সময়কালে ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টিং যৌথভাবে কাজ করবে মিশন মৌসম প্রকল্পে।