আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির পথে পথে এখন দুশ্চিন্তা। সম্প্রতি মধ্য এশিয়ার সঙ্কটে রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় কার্যত শিকেয় উঠেছে দিল্লির বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড ব্যাবসা। আকাশছোঁয়া তেলের দাম আর এলপিজি-র অভাবে ধুঁকছে রাজধানীর ছোট-বড় খাবারের দোকানগুলো।

কোনাট প্লেসের ভিড় আছে, কিন্তু প্লেটে নেই সেই পরিচিত স্বাদ। শঙ্কর মার্কেটের নামী দোকানগুলো থেকে একে একে উধাও হচ্ছে জনপ্রিয় সব পদ। দোকানের মালিক দীপক জানালেন, রান্নার গ্যাস নেই বলে বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন ওভেনে রুটি সেঁকছেন। আর ছোলে-ভাটুরের মতো পদ? গ্যাস না থাকায় মেনু থেকেই বাদ দিতে হয়েছে সব।

একই আক্ষেপ শঙ্কর মার্কেটের ধাবা মালিক সৌরভ মেহতার। তাঁর কথায়, “অটোচালক থেকে শুরু করে অফিসের বড়বাবু- সবাই আসতেন সস্তায় ভালো খাবারের খোঁজে। কিন্তু ডাল মাখনি বা ছোলে-ভাটুরে না থাকায় এখন খদ্দের কমছে।” খাবারের দাম বাড়ানোও ঝুঁকি, কারণ তাতে খদ্দের হারানোর ভয়। স্রেফ কর্মীদের রুটিরুজির টানে ধুঁকতে ধুঁকতে ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি।

ক্ষুব্ধ ভোজনরসিকরাও। গত দু’দশক ধরে এখানে খেতে আসা রবি পর্চা জানালেন, ছোলে-ভাটুরে ছাড়া দিল্লি ভাবাই যায় না। চণ্ডীগড় থেকে আসা পর্যটক ডিম্পলের অভিজ্ঞতাও তথৈবচ। তাঁর কথায়, “কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কেউ জানে না।”

কোনাট প্লেসের গুপ্ত ধাবার রামচন্দ্র বা বিজয় পরাশরের কথায় চরম অনিশ্চয়তা। উনুন জ্বালানোর গ্যাস নেই, তাই খদ্দেরহীন শূন্য দোকানের সামনে ঠায় বসে থাকা ছাড়া আর পথ নেই তাঁদের। নিয়মিত অফিসযাত্রী সুনীল কুমারের প্রিয় ডাল মাখনি বা ছোলে-রাইসও এখন ডুমুরের ফুল।

গ্যাসের অভাবে অনেক বিক্রেতাই কয়লা বা কাঠ জ্বালিয়ে রান্না শুরু করেছেন। এর জেরে খাবারের মান কমছে। বাড়ছে দূষণের আশঙ্কা। বিশ্বরাজনীতি ক্রমেই বেসামাল হয়ে পড়ছে।