আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ। আরেকদিকে বিশ্বরাজনীতি টালমাটাল। এই উত্তেজনার জেরে ভোপালের সুগন্ধি ব্যবসায় লাগল বড় ধাক্কা। ব্যবসায়ীদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার জেরে কোটি টাকার বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোপালের এই সুগন্ধি ব্যাবসার বাজার অনেক দিনের পুরনো। শহরের নবাবি আমলের ঐতিহ্য মিশে আছে এই বাজারে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে এই ব্যবসা।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় অসংখ্য আতরের দোকান রয়েছে। রয়েছে সুগন্ধী তৈরীর কারখানাও। বিশেষ করে জুমেরাত্রী, ইব্রাহিমপুরা, ও জাহাঙ্গিরবাদ এলাকায় এই ব্যাবসার বড় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাধারণত রমজান মাসেই ভোপালের এই বাজারে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার বিক্রি হয়। স্থানীয় ক্রেতারা কেনেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলিতেও বড় অর্ডার যায়।
কিন্তু, এবছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলিতে সুগন্ধি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কুরিয়ার পরিষেবা একপ্রকার বন্ধ। বহু অর্ডার বাতিল হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রমজান মাসে তাঁরা সাধারণত ১০ কোটিরও বেশি টাকার মাসিক ব্যবসা আশা করেন। কিন্তু, এবছর তার ধারেকাছেও দেখতে পাচ্ছেন না।
ভোপালের সুগন্ধি শিল্প শুধু দোকান কেন্দ্রীক ব্যাবসার উপরে দাঁড়িয়ে আছে, এমনটা নয়। এই ব্যবসায় নির্ভরশীল আরও অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী, কারিগর, বোতল প্রস্তুতকারক, সুগন্ধি মিশ্রণকারী এবং ছোট ছোট কর্মশালা। এই পুরো ব্যবসার বড় অংশই রমজান ও ঈদের মৌসুমের ওপর নির্ভর করে। কার্যত এই সময়েই বছরে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু এবারে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেই বিক্রি অনেক কম হয়ে গিয়েছে।
ভোপাল বাজারে সব ধরনের সুগন্ধি পাওয়া যায়। ছোট বোতল ৫০ টাকাতে বিক্রি হয়। আবার প্রিমিয়াম উড বা প্রাকৃতিক আতরের দাম প্রতি তোলায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্তও হতে পারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বছর অর্ডার ইতিমধ্যেই ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলির ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০টির বেশি রপ্তানি অর্ডার বাতিল হয়েছে। ফলস্বরূপ একাধিক অর্ডার অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।
সুগন্ধি ব্যবসায়ী সৈয়দ মহম্মদ আলতামাস জালাল জানান, “ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে। বেশ কিছু চালান আটকে আছে কুরিয়ার সংস্থার কাছে। খাঁটি প্রাকৃতিক উড তেলের একটি রপ্তানি অর্ডারের দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্তও হতে পারে। একাধিক অর্ডার বাতিল হলে ক্ষতির পরিমাণ সহজেই কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছে যাবে।”
শহরের পুরনো ব্যবসাগুলিও বড় সমস্যায় পড়েছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান ভেনাস পার্ফিউমসের মালিকদের কথায়, “এই বছর সুগন্ধির বাজার ভীষণ দুর্বল। এত দুর্বল বাজার এর আগে কখনও দেখিনি।” প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রফিক আহমেদ রাজা জানান, “সরবরাহ ও পরিবহন, দু’দিক থেকেই বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা সুগন্ধি উপাদানের সরবরাহ কমে গিয়েছে। অন্যদিকে এদিক থেকে পাঠানো পণ্যও মাঝ পথে আটকে যাচ্ছে।”
রমজান মৌসুমে সাধারণত ভোপালের সুগন্ধি বাজারে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। তাই সামান্য মন্দাও বড় প্রভাব ফেলছে। বড় ব্যবসায়ীরা তবুও ধাক্কা সামলাতে পারবে। সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা। বৈরাগড় জাহাঙ্গীরাবাদের মতো এলাকায় বহু ছোট কারখানা রয়েছে। এরা মূলত, এই উৎসবের উপরেই নির্ভর করে থাকে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে অনেক ছোট কর্মশালা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেই সব কারিগর, যাঁদের শ্রমে ভোপালের সুগন্ধি কেন্দ্রীক ঐতিহ্য আজও বেঁচে আছে।
