আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন এবার হবে দু'টি পর্যায়ে। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা ৪ মে।
এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। উল্টোদিকে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি মমতা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক হিংসা এবং উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ক্ষমতা দখলে মরিয়া।
২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় সাত কোটির ভোটার। ভোটাররা তাদের মতামত দেবেন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।
একজন ভোটার হিসাবে আপনার মনে কী এই প্রশ্ন জেগেছে, আপনি যখন ভোট দেন তখন ইভিএম-এর ভেতরে আসলে কী হয়? কিংবা কীভাবে নিশ্চিত করা হয় যে, প্রতিটি ভোট ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই সঠিকভাবে গণনা করা হবে? এই প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নেরক উত্তরই আলোকপাত করা হবে।
ইভিএম কীভাবে কাজ করে?
একটি ইভিএম-এর মূলত দু'টি অংশ, ব্যালট ইউনিট এবং কন্ট্রোল ইউনিট।
ব্যালট ইউনিটটি সেই ভোটদান কক্ষে রাখা থাকে, যেখানে ভোটাররা ভোট দিতে যান। এই ইউনিটে প্রার্থীদের একটি তালিকা থাকে, যার পাশে তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীক এবং প্রতিটি নামের পাশে একটি করে নীল রঙের বোতাম থাকে।
কন্ট্রোল ইউনিটটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে বসে থাকা ভোটগ্রহণ আধিকারিকদের দায়িত্বে থাকে। যখন কোনও ভোটারের ভোট দেওয়ার পালা আসে, তখন আধিকারিক কন্ট্রোল ইউনিটের একটি বোতাম টিপে সেই ভোটারকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেন। এরপর ভোটার ভোটদান কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তার পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে থাকা বোতামটি চাপেন।
একটি মৃদু 'বিপ' শব্দ শোনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভোটটি সঠিকভাবে নথিবদ্ধ হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ইভিএম-এর সঙ্গে ভিভিপ্যাট (ভোটার ভেরিফাইয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল) নামক একটি অতিরিক্ত যন্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। যখন কোনও ভোটার ভোট দেওয়ার বোতামটি চাপেন, তখন ভিভিপ্যাট যন্ত্রের ভেতরে একটি ছোট স্লিপ বা রসিদ মুদ্রিত হয়, যাতে সেই ভোটারের নির্বাচিত প্রার্থীর নাম এবং দলের প্রতীক প্রদর্শিত থাকে। এই স্লিপটি একটি স্বচ্ছ জানালার মধ্য দিয়ে ভোটার দেখতে পান, যা কয়েক সেকেন্ড দৃশ্যমান থাকার পর স্লিপটি যন্ত্রের ভেতরে থাকা একটি সিল করা বাক্সে গিয়ে জমা হয়। এর ফলে ভোটারদের মনে এই আস্থা ও বিশ্বাস জন্মায় যে, তাদের দেওয়া ভোটটি সঠিকভাবে নথিবদ্ধ হয়েছে।
ভোটদান পর্ব শেষে কী ঘটে?
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে, (দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতোই) ইভিএমগুলোকে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন ও সংরক্ষণ করা হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে একটি 'মক পোল' বা পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য হল - যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কি না এবং সেগুলোতে আগে থেকেই কোনও ভোট নথিবদ্ধ করা নেই- তা সকলের সামনে প্রমাণ করা। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর, মেশিনগুলো সিলগালা করে 'স্ট্রং রুম'-এ নিয়ে যাওয়া হয়,; সেখানে ভোটগণনার দিন পর্যন্ত সেগুলোর কড়া পাহারা দেওয়া হয়।
গণনার দিন, আধিকারিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কন্ট্রোল ইউনিটগুলো খোলা হয়। এরপর মেশিনে সংরক্ষিত ভোটগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয় এবং দ্রুত গণনা করা হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে, ফলাফলের সঠিকতা যাচাই বা 'ক্রস-চেক' করার উদ্দেশ্যে ভিভিপ্যাট স্লিপগুলোও গণনা করা হয়।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ স্বচ্ছ করে তোলা, কাগজের ব্যালটের তুলনায় ত্রুটির হার কমিয়ে আনা এবং ভিভিপ্যাট-এর মতো যাচাইকরণ ব্যবস্থা ও প্রতিটি স্তরে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।















