আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের সময় প্রায়ই টাকা-মদ-উপহার দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে দেখা যায়। এর বিরুদ্ধেই সোচ্চার মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ঊষা ঠাকুর। তাঁর সাফ কথা, টাকা-মদ-উপহারের কাছে গণতন্ত্র বিক্রি করা ব্যক্তিরা উট, ভেড়া, ছাগল, কুকুর এবং বিড়াল হয়ে পুনর্জন্ম পাবে।

বুধবার মহো বিধানসভা কেন্দ্রের হাসলপুর গ্রামে এক সভায় বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বিরোধী কংগ্রেস, শাসক দলের বিধায়ককে "রক্ষণশীল চিন্তাভাবনা"র নিন্দা করেছে।

গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়ে ঊষা ঠাকুর বলেন, "লাডলি বহনা যোজনা এবং কিষাণ সম্মান নিধির মতো বিজেপি সরকারের নানা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার টাকা আসছে। তার পরেও, যদি ৫০০-১০০০ টাকায় ভোটাররা বিক্রি হয়, তবে এটি মানবতার ক্ষেত্রে লজ্জার বিষয়।" 

ভোটের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঊষা ঠাকুর বলেন, "ঈশ্বর সব দেখছেন। ভোট দেওয়ার সময় আপনার সততা হারাবেন না।"

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর সংযোজন, "যারা টাকা, শাড়ি, গ্লাস এবং মদ খেয়ে নিরপেক্ষ হয়েছিলেন, আপনার ডায়েরিতে লিখে রাখুন- তারা অবশ্যই পরের জন্মে উট, ভেড়া, ছাগল, কুকুর এবং বিড়াল হয়ে জন্মাবেন। যারা গণতন্ত্র বিক্রি করবে তাদের পরিণত ওটাই, এটা লিখে রাখুন। ঈশ্বরের সঙ্গে আমার সরাসরি কথোপকথন হয়েছে, বিশ্বাস করুন।"  

ঠাকুর, যিনি আগে এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, "কেবলমাত্র বিজেপিকেই ভোট দেওয়া উচিত, কারণ এই দলই জাতি, ধর্ম এবং সংস্কৃতির সেবা করে।"

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">April 17, 2025

এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে, ঠাকুর সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান যে, তিনি গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বলেন, "গণতন্ত্র আমাদের জীবন। সংবিধানের বিধান অনুসারে সরকার মানুষের জীবন উন্নত করার জন্য অনেক পরিকল্পনা কার্যকরের চেষ্টা করে। সকলেই বছরের ১২ মাস জনসাধারণের সেবা করে। এমন পরিস্থিতিতে, যদি কোনও ব্যক্তি নির্বাচনের সময় যেকোনও পরিস্থিতিতে টাকা, মদ বা অন্যান্য জিনিসপত্রের জন্য তার ভোট বিক্রি করে, তাহলে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।"  

নিজের মন্তব্যের পক্ষে ঊষা ঠাকুর বলেন, "আমাদের কর্মের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী জীবন পাই। যদি আমাদের কর্ম খারাপ হয়, তাহলে আমরা মানুষ হিসেবে পুনর্জন্ম পাব না।" 

মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র মৃণাল পন্থ বলেন, "ঊষা ঠাকুরের বক্তব্য কেবল তার রক্ষণশীল চিন্তাভাবনাই প্রকাশ করে না, বরং রাজ্য বিজেপি নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকেও ইঙ্গিত করে।"