আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় এক চাঞ্চল্যকর পারিবারিক বিবাদের জেরে শিবসেনা (ইউবিটি)-র প্রাক্তন সাংসদ বিনায়ক রাউতের পরিবারে নেমে এসেছে আইনি সংকট। তাঁর পুত্রবধূ গিরিজা রাউত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে জোর করে গোমূত্র খাওয়ানো, তান্ত্রিকের ডেরায় নিয়ে যাওয়া এবং কালাজাদুর উদ্দেশ্যে মাথার চুল কেটে নেওয়ার মতো গুরুতর নির্যাতন ও কুসংস্কারের অভিযোগ এনেছেন। গিরিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানে পুলিশ ইতিমধ্যেই কুসংস্কার বিরোধী ও ফৌজদারি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।
এফআইআর-এ গিরিজা সরাসরি তাঁর শ্বশুর তথা প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বিনায়ক রাউত, স্বামী গিতেশ রাউত এবং ফিরোজ বাবা ও কাজী বাবা নামের দুই তান্ত্রিকের নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগপত্রে গিরিজা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই বছরের পর বছর ধরে তাঁর ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। যেকোনও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকেরা অলৌকিক ও অলীক কারণকে দায়ী করতেন। তিনি গুরুতর থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগলেও তাঁকে ডাক্তার দেখানোর বদলে জোর করে বিভিন্ন তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো এবং অবসাদ কমানোর ওষুধ খেতে বাধ্য করা হতো। গিরিজার দাবি, তাঁর স্বামী দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখতে অক্ষম ছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে কোঙ্কন অঞ্চলের বিভিন্ন তান্ত্রিকের দরবারে নিয়ে গিয়ে এসব অদ্ভুত আচার-অনুষ্ঠান করানো হতো। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও টাকার বিষয় নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে সহ্য করা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচার পেতেই তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
গিরিজার এই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ‘মহারাষ্ট্র নরবলি এবং অন্যান্য অমানুষিক, অশুভ ও অঘোরী প্রথা এবং কালাজাদু প্রতিরোধ ও নির্মূল আইন, ২০১৩’-এর ৩(২) ও ৩(৩) ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে।
তবে পুত্রবধূর আনা এই সমস্ত বিস্ফোরক অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং প্রতিহিংসামূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ বিনায়ক রাউত। তাঁর দাবি, এই পুরো নাটকের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে চলমান খোরপোশ বা অ্যালিমনি সংক্রান্ত একটি আইনি বিবাদ। বিনায়ক রাউত প্রশ্ন তুলেছেন, গিরিজা যে ঘটনাগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও, তখন কেন তিনি চুপ ছিলেন? খোরপোশের মামলা শুরু হওয়ার পরই কেন তিনি পুলিশের কাছে গেলেন?
প্রাক্তন সাংসদের অভিযোগ, গিরিজা তাঁদের কাছে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ৩-বিএইচকে ফ্ল্যাট এবং প্রতি মাসে ২ লক্ষ টাকা খোরপোশের দাবি করেছিলেন। সেই দাবি মেনে না নেওয়ার কারণেই তাঁদেরকে বিপাকে ফেলতে এই কালাজাদুর গল্প ফাঁদা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়ার সময় গিরিজার নিজের বাবা-মাও উপস্থিত ছিলেন, তাই এখন এর দায় তাঁদের ওপর চাপানো অর্থহীন। গত তিন বছর ধরে গিরিজা তাঁর স্বামীর সাথে থাকেন না বলেও জানান তিনি। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।















