আজকাল ওয়েবডেস্ক: হোলি মানেই রঙ আর আনন্দ। সারা বছরে এই একটা দিন সকলে পরিবারের সঙ্গে রং খেলে আনন্দ করে। যাঁরা বাড়ি থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা ঘরে ফেরার সময়। কাজ বা পড়াশোনা যত দূরেই নিয়ে যাক, উৎসবের সময়টায় বেশিরভাগ মানুষই ব্যাগ গুছিয়ে ঘরমুখো হয়। কিন্তু এক যুবকের জন্য এ বছরের হোলি আনন্দ নয়, নিয়ে এল চোখের জল। পরিবারের 'অনুরোধ', বা বলা যেতে পারে নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞা শুনে অনলাইনে কথোপকথনের মাঝেই ভেঙে পড়লেন যুবক। সেই ভিডিওই এখন ভাইরাল। 

ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন এক ব্যক্তি। উনি ওমেগেল টিভি নামের একটি ভিডিও চ্যাট অ্যাপ ব্যবহার করছিলেন। এই অ্যাপে অনেকের সঙ্গে কথা বলার পরে যোগাযোগ হয় এক যুবকের সঙ্গে। তখনই কথোপকথনের সময়ে সামনে আসে তাঁর সঙ্গে ঘটা কিছু ঘটনা। তিনি বাড়ি যেতে চাইলেও, পরিবার তাঁকে ফিরতে মানা করে দেয়। 

ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কথা বলতে বলতেই চোখ ভিজে যাচ্ছে যুবকের। তাঁর কথায়, "ঘরে ফিরতে বারন করেছে। এ কেমন পরিবার কে জানে! চার মাস হয়ে গিয়েছে বাড়ি যাইনি আমি। যখন বললাম সে কথা, তখন বলে, মাস চারেক বাদে এসে আর কী হবে?”

তাঁর কথায় জানা গিয়েছে, তিনি বাড়ি থেকে আনুমানিক ১০০–১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকেন। অর্থনৈতিক দায়িত্বও কাঁধে নেওয়ার কথাও জানান। "খুব খারাপ লাগছে”, তিনি স্পষ্ট করেন, হোলিতে বাড়ি যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরিবার যখন সরাসরি যেতে ‘না’ বলেছে, তখন না জানিয়ে চলে যাওয়া ঠিক হবে না বলেই মনে করেছেন। “হোলিতে কে বাড়ি যায় না বল তো! কিন্তু মুখের উপর যখন মানা করছে, না বলে গেলে ভাল দেখাবে না।” 

ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “কে বলে পুরুষ কাঁদে না? পরিবারের জন্য সে সবকিছু করতে পারে। ওমেগেল টিভিতে আমার সঙ্গে এই যুবকের আলাপ হয়। ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে যা বললেন, তুলে ধরলাম আপনাদের সামনে।” 

কমেন্ট সেকশনে উপচে পড়ে সহানুভূতি, ক্ষোভ আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এক ব্যবহারকারী লেখেন, যুবক যখন বললেন, রুজিরুটির টানে পড়ে আছি, তখন কথাটা ছুরির মতো এসে লাগল। আরেকজন মন্তব্য করেন, পরিবার তাঁকে কেবল উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে দেখে। কেউ বা লেখেন, পুরুষের দায়িত্ব আছে মানে এই নয় যে অনুভূতি নেই। আবেগ নেই। সেও মানুষ। তারও ভালোবাসা, যত্ন এবং সর্বপরী পরিবারের সমর্থন দরকার পড়ে। 

এক দর্শক নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। “ভাই, আমারও একই অবস্থা। আমি ছাত্র। রমজানে আমার বাড়ির লোকও মানা করেছে। আমি মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে থাকি, কিন্তু যখন মানা করেছে, কী করব?” অভিনেত্রী ব্যান্ডগি কাল্লারাও মন্তব্য করেন, “চার মাস টাকা পাঠানো বন্ধ করে দাও, বুঝে যাবে।” এছাড়াও জমা হয়েছে “ভিডিও দেখে আমি কেন কাঁদছি?”, “জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত”, “পরিবারের লজ্জা হওয়া উচিত”এমন অসংখ্য প্রতিক্রিয়া। 

ভিডিও শেয়ার হওয়ার পর প্রায় আট লক্ষ ভিউ পায়। (আজকাল.ইন স্বতন্ত্রভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখেনি।)