আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিআর নিয়ে ভারতের ভূমিকায় ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল আমেরিকা। ২০২৬ সালের ‘প্রায়োরিটি ওয়াচ লিস্ট’-এ ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতে পেটেন্ট ও কপিরাইট সুরক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি এখনও মেটেনি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘আইপিআর এবং আইনি প্রয়োগের নিরিখে ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং দেশ।’’
প্রতি বছরই আমেরিকার বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলি পেটেন্ট, কপিরাইট এবং ট্রেডমার্কের মতো অধিকারগুলি কতটা গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করছে, তার ভিত্তিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।
এ বছর ভারতের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চিলি এবং ভেনেজুয়েলা- এই ছয়টি দেশকে বিশেষ নজরদারির তালিকায় রাখা হয়েছে। আমেরিকার দাবি, এক্ষেত্রে ভারত সামান্য উন্নতি করলেও মূল সমস্যাগুলি রয়েই গিয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ভারতে জাল পণ্য এবং পাইরেসি রোখার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতা বেশ দুর্বল। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। এমনকী, আইপি-সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। পাশাপাশি বাণিজ্যিক গোপনীয়তা রক্ষার অভাব এবং ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত মামলা মেটাতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও নজরে এনেছে তারা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘আমেরিকা এই বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্তরে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলবে।’’
অন্যদিকে, এক দশকেরও বেশি সময় পর ভিয়েতনামকে ‘প্রায়োরিটি ফরেন কান্ট্রি’ (পিএফসি) হিসেবে চিহ্নিত করেছে আমেরিকা। এটি মার্কিন বাণিজ্য আইনের সবথেকে কড়া তকমা। এর ফলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে, যার জেরে দেশটির ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে অভিযোগ অভিযোগ, দীর্ঘ আলোচনার পরেও ভিয়েতনাম এই বিষয়ে কোনও সদিচ্ছা দেখায়নি।
এবারের তালিকায় বেশ কিছু রদবদলও চোখে পড়েছে। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোকে সাধারণ ‘ওয়াচ লিস্ট’-এ রাখা হয়েছে। বুলগেরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দিলেও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও ব্রাজিল-সহ মোট ১৯টি দেশ আপাতত নজরদারির তালিকায় রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কড়া বার্তা তারা প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ করবে।















