অ্যাপেন্ডিক্স ক্যানসার খুবই বিরল একটি রোগ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্যানসারের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছরের মানুষের মধ্যে রোগটি বেশি ধরা পড়ছে।
2
10
চিকিৎসকদের মতে, সমস্যার মূল কারণ হল এই ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলি সাধারণ পেটের সমস্যার মতো হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়।
3
10
অ্যাপেন্ডিক্স হল বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট অঙ্গ। এই অংশে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পেলে ক্যানসার হতে পারে। শুরুতে রোগের লক্ষণ খুব স্পষ্ট না হওয়ায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
4
10
পেটের ডান দিকে নিচে ব্যথা: অ্যাপেন্ডিক্স ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হল পেটের ডান দিকের নিচের অংশে ব্যথা। এই ব্যথা কখনও হালকা, কখনও মাঝারি হতে পারে। অনেকেই এটিকে গ্যাস, বদহজম বা সাধারণ পেটব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু ব্যথা যদি বারবার ফিরে আসে বা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
5
10
মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: হঠাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হওয়া, বারবার ডায়রিয়া হওয়া বা মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বদলে যাওয়া সতর্কতার ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় টিউমারের কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
6
10
পেট ফোলা বা ভারী লাগা: অনেক রোগীর ক্ষেত্রে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা দেখায়। খাওয়ার পর অতিরিক্ত ভারী লাগা বা সবসময় পেট ভর্তি অনুভূত হওয়াও একটি লক্ষণ হতে পারে। কিছু ধরনের অ্যাপেন্ডিক্স টিউমার শরীরে অতিরিক্ত মিউকাস তৈরি করে, যার ফলে পেট ফুলে যেতে পারে।
7
10
সবসময় ক্লান্ত লাগা: পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি শরীরে শক্তি না থাকে, সারাক্ষণ দুর্বল লাগে বা কাজ করার ইচ্ছা না হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। ক্যানসারের কারণে শরীরে রক্তাল্পতা বা অন্যান্য জটিলতা তৈরি হলে এমন ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
8
10
কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট না করেও বা শরীরচর্চা না বাড়িয়েও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অনেক ধরনের ক্যানসারের মতো অ্যাপেন্ডিক্স ক্যানসারেও এই লক্ষণ দেখা যায়।
9
10
চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলির মানেই যে অ্যাপেন্ডিক্স ক্যানসার, এমন নয়। এগুলি অন্য অনেক রোগের কারণেও হতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।
10
10
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়তে পারে। আর যত তাড়াতাড়ি রোগ ধরা পড়বে, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।