আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঙালি তথা ভারতীয়দের জীবনে সোনা শুধু একটা অলঙ্কার নয়, এটি আসলে পরিবারগুলোর চরম বিপদের বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ সঞ্চয়। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন ১০ গ্রাম বা এক ভরি সোনার দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে, তখন পেছনে ফিরে তাকালে এর অবিশ্বাস্য বিবর্তন রীতিমতো চমকে দেয়। ১৯৫০ সালে স্বাধীন ভারতের শুরুর দিনগুলোতে যেখানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল মাত্র ৯৯ টাকা, আজ তা হাজার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে এক ঐতিহাসিক স্তরে পৌঁছেছে। সময়ের সাথে সাথে জীবনযাত্রার মান এবং মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে, সোনার দামের এই গ্রাফটি যেন তারই এক জীবন্ত দলিল।

গত সাত দশকের এই দীর্ঘ অর্থনৈতিক যাত্রায় সোনা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকেনি, বরং ভারতীয় মুদ্রার মূল্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের দাম বাড়িয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে যে সোনা ১০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছিল, ১৯৭০ বা ১৯৮০-র দশকে তা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। কিন্তু আসল লাফালাফি শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর থেকে। ২০০০ সালের দিকেও যে সোনার দাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার ঘরে ঘোরাফেরা করত, তা ২০১১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মন্দা এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার ধাক্কায় এক ধাক্কায় প্রায় ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখনই শেয়ার বাজার বা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কোনো বড় সংকট এসেছে— যেমন ২০০৮ সালের বিশ্বজোড়া মন্দা, কিংবা ২০২০ সালের করোনা মহামারী— তখনই বিনিয়োগকারীরা জমি বা শেয়ার ছেড়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। আর চাহিদা বাড়ার কারণে সোনার দামও রকেটের গতিতে ছুটেছে। করোনা পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এই দামের দৌড়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ১৯৫০ সালের সেই ৯৯ টাকার সোনা আজ যেভাবে লাখের ঘরের দিকে এগোচ্ছে, তা সাধারণ মধ্যবিত্তের বিয়ের বাজেটকে ওলটপালট করে দিলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়— সময়ের সাথে সাথে বহু কাগজের নোটের মূল্য কমলেও, এই হলুদ ধাতুর নিজস্ব মহিমা এবং শক্তি এক ফোঁটাও কমেনি।