আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। মাত্র ৮২২টি ভোট পাওয়া একটি অখ্যাত দল রাতারাতি দেশের লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তি হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ত্রিপুরা-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর সাথে নিজেদের একীভূত করার কথা জানিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক দলবদলের ফলে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে যেমন বড়সড় রদবদল হতে চলেছে, তেমনই খোদ বাংলার রাজনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়তে বাধ্য।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব বা সায়নী ঘোষের মতো হেভিওয়েট এবং জনপ্রিয় মুখের এই দলত্যাগের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত একটি আইনি কৌশল কাজ করছে। ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে গেলে কোনও  দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক বা সাংসদের অন্য কোনও  দলের সাথে মার্জার বা একীভূত হওয়া প্রয়োজন। তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় তারা অনায়াসেই সেই আইনি বাধা পার করে ফেলেছেন। তবে দলের বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, এটি তাদের একটি সাময়িক পদক্ষেপ। আগামী জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হলে তারা নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করবেন এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত অবধি গড়াবে।

অন্য দিকে এই নাটকীয় ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকফুটে মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূল শিবির। অভিষেক ব্যানার্জি ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে কোনও  রকম স্বীকৃতি না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তাঁর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী মূল রাজনৈতিক দল বাদ দিয়ে সংসদীয় দলের এভাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার কোনও  আইনি ভিত্তি নেই। সৌগত রায়ের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলবদলকে চরম উপহাস করে বলছেন, যে দলের নাম কেউ শোনেনি, যারা নির্বাচনে নোটোর থেকেও কম ভোট পেয়েছে, তাদের হাত ধরে এই সাংসদেরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় কোন মুখে ফিরে যাবেন?

তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে এই ঘটনার নেপথ্য কারিগরদের নিয়ে। দলবদলের ঠিক আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে বিদ্রোহীদের দীর্ঘ বৈঠক এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি স্পষ্ট ইঙ্গিত করে যে, এই গোটা অপারেশনের পেছনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই মার্জার যদি স্পিকারের অনুমোদন পেয়ে যায়, তবে লোকসভায় শাসক জোট এনডিএ-র শক্তি ২৯৪ থেকে বেড়ে ৩১৪-তে পৌঁছাবে, যা মোদি সরকারকে আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করাতে বড় সুবিধা দেবে। একটি প্রায় অস্তিত্বহীন আঞ্চলিক দল থেকে রাতারাতি দিল্লির ক্ষমতার অন্যতম বড় শরিক হয়ে ওঠার এই ঘটনা ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে সত্যিই এক অদ্ভুত ম্যাজিক।