আজকাল ওয়েবডেস্ক: জয়পুরের আন্দোলন মঞ্চে এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হল। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রকাশ্যেই চড় মারা হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে। জয়পুরের শহীদ স্মারকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদস্থলে।
আজ সোমবার বিকেলে জয়পুরের শহীদ স্মারকে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক বিশাল যুব সমাবেশের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর উপস্থিত সমর্থকেরা যখন স্লোগান দিতে দিতে অভিজিৎ দিপকে-কে কাঁধে তুলে মঞ্চের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন যুবক আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কাঁধে চড়ে থাকা অবস্থাতেই দিপকে-কে লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি চড় মারা হয় এবং তাঁর গলার স্কার্ফ টেনে নিচে নামানোর চেষ্টা করা হয়। এই আকস্মিক হামলায় মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সমাবেশস্থল। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পাল্টা আক্রমণ চালালে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে আটক করে।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, “শারীরিক আক্রমণ আসলে ভয় ও কাপুরুষতার লক্ষণ। আমরা মহাত্মা গান্ধী এবং আম্বেদকরের অনুসারী, তাই কোনও হিংসার পথ আমরা বেছে নেব না।” হামলার পরেও নিজের দাবিতে অনড় থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ওরা একটা চড় মারুক বা দশটা, আমাদের মূল দাবি থেকে আমরা নজর ঘোরাব না— পরীক্ষার্থীদের প্রতি এই অন্যায়ের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।” এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ককরোচ জনতা পার্টির রাজ্য মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলার পেছনে রাজস্থান সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা দায়ী।
উল্লেখ্য, মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হিসেবে শুরু হওয়া এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বর্তমানে ভারতের যুব সমাজের একাংশের কাছে এক বড় প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। দিল্লি, পুণে এবং বেঙ্গালুরুর পর জয়পুরের এই সমাবেশও তাদের দেশব্যাপী আন্দোলনেরই অংশ ছিল। আজ জয়পুরের এই চড়কাণ্ডের পর দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, এবং আগামী ২০ জুন দিল্লিতে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্না আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।















