আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ে মানেই এলাহি ব্যাপার, আর ভারতীয় বিয়েতে তো জাঁকজমক না থাকলে যেন আমেজই জমে না। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যা দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে। রাজস্থানের এক মারওয়াড়ি পরিবার বিয়ের যাত্রার জন্য পুরো আস্ত একটা ট্রেনের কোচ বুক করে ফেলেছেন! ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের বগিকে রীতিমতো বিয়ের আসর বানিয়ে ফেলেছেন আত্মীয়স্বজনরা। জানলার পাশে নামফলকের ওপর মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে কোচটিকে, টাঙানো হয়েছে নতুন দম্পতিকে স্বাগত জানানোর পোস্টার। ভেতরে চলছে দেদার নাচ-গান আর হইহুল্লোড়। নববধূকে দেখা যাচ্ছে ট্রেনের ভেতরেই কেক কাটতে, আর চারপাশ ঘিরে আনন্দে আত্মহারা দাদু-দিদা থেকে শুরু করে নাতি-নাতনিরা।

এই ভিডিওটি এক্স  হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন রেলওয়ে অ্যাকাউন্টস সার্ভিসের আধিকারিক অনন্ত রূপানাগুড়ি। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়া যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একদল এই ঘটনা দেখে নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মতে, নব্বইয়ের দশকে এমন দৃশ্য খুবই পরিচিত ছিল। তখন মাস তিনেক আগে স্টেশন মাস্টারের কাছে গিয়ে গোটা বগি বুক করার রেওয়াজ ছিল অনেকের মধ্যেই। কেউ কেউ তো বলছেন, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মিলেমিশে ট্রেনের বগিতে এমন আনন্দ করতে করতে যাওয়ার মজাই আলাদা। কিন্তু অন্য এক পক্ষ এই বিষয়টিকে সরাসরি 'নাগরিক কাণ্ডজ্ঞানহীনতা' বলে দেগে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, যে দেশে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন একটা ট্রেনের সিটের জন্য হাহাকার করেন, সেখানে একটি পরিবার কীভাবে আস্ত বগি নিজেদের ব্যক্তিগত উৎসবের জন্য আটকে রাখতে পারে? 

ভিডিওতে আরও দেখা যাচ্ছে, প্রচণ্ড ভিড় আর হুল্লোড়ের মধ্যে টিকিট পরীক্ষক (TTE) নিজের কাজ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। যদিও হাসিমুখেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন তিনি, কিন্তু সমালোচকদের দাবি, ট্রেনের মতো একটি গণপরিবহনকে ব্যক্তিগত ড্রয়িংরুম বানিয়ে ফেলা কি আদৌ উচিত? এক ব্যবহারকারী তো ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষ যখন অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পান না, তখন এই পরিবার এত সহজে গোটা বগি কীভাবে পেল? এর পেছনে কোনও  ‘ঘুষ’ বা অন্য প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। 

তবে বিতর্কের মধ্যেই অন্য এক কৌতূহলও দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষের মনে। অনেকেই জানতে চাইছেন, আদতে কি সাধারণ মানুষ চাইলে এভাবেই রেলের কোচ বুক করতে পারেন? ভিডিওর নিচে এক ব্যক্তি সরাসরি আধিকারিককে ট্যাগ করে জানতে চেয়েছেন, আগামী নভেম্বরে তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য জয়পুর থেকে ধানবাদ পর্যন্ত তিনি কীভাবে এমন বাল্ক বুকিং করতে পারেন। রেলের নিয়ম অনুযায়ী, ‘ফুল ট্যারিফ রেট’ (FTR) দিয়ে বিশেষ বগি বা এমনকি আস্ত ট্রেন বুক করা বৈধ হলেও, এই ভিডিওটি এখন সাধারণ যাত্রীদের সুবিধা বনাম ব্যক্তিগত আভিজাত্যের এক বড়সড় তর্কের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন এই মারওয়াড়ি পরিবারের উদ্দীপনা মানুষকে আনন্দ দিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণের হয়রানির আশঙ্কাও জনমনে ছাপ ফেলেছে।