আজকাল ওয়েবডেস্ক: কয়েক ঘণ্টা পরেই বিয়ে। মণ্ডপে পৌঁছনোর আগেই মাঝ রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে বমি করছিলেন পাত্র। ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। পাত্রকে পিষে দেয় বেপরোয়া গতির এক ট্রাক। এরপর কয়েক মিটার টেনে হিঁচড়েও নিয়ে যায়। পথেই মর্মান্তিক পরিণতি পাত্রের। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বাঘপাতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত পাত্রের নাম, সুবোধ কুমার। বিয়ের ঠিক কয়েক মিনিট আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। মাঝ পথে পাত্রকে পিষে দেয় এক বেপরোয়া ট্রাক‌। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিয়েবাড়ির হুল্লোড় মুহূর্তে থেমে যায়। শোকের ছায়া গোটা এলাকায়। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিনাউলি থানা এলাকায়। পিচোকরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সুবোধ। রবিবার রাতে বরযাত্রীদের সঙ্গে সারোরপুর কালান গ্রামে। সেখানে রাতের খাওয়াদাওয়ার জন্য পঞ্চায়েতের এক বাড়িতে থেমেছিলেন বরযাত্রীরা। 

পরিবার জানিয়েছে, সেখানেই গাড়িতে বসে শরীরে অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছিল সুবোধের। বমি বমি ভাব ছিল। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বমি করছিলেন। সেই সময়ে এক বেপরোয়া ট্রাক সুবোধকে পিষে দেয়। এরপর কয়েকটি মিটার পাত্রকে টেনে হিঁচড়েও নিয়ে যায়। তারপর এলাকা থেকে পালিয়ে যায় ট্রাকটি। 

পাত্রকে উদ্ধার করে প্রথমে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান আত্মীয়রা। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ট্রাক চালকের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পাত্রী। 

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, জগদীশপুর গ্রামে বিয়ের আসরটি বসেছিল। বৃহস্পতিবার ত্রিলোকপুর গ্রাম থেকে এসেছিলেন বরযাত্রীরা। ডিজে গান চালিয়ে নাচতে নাচতে বিয়ের আসরে পৌঁছন তাঁরা। এরপর পাত্রকে বরণ করে বিয়ের মণ্ডপেও নিয়ে আসেন কনের আত্মীয়রা। ঠিক মালাবদলের আগেই ঘটল বিপত্তি। 

হঠাৎ ডিজের গানের সঙ্গে নাচ করতে গিয়ে কনের কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে বরপক্ষের ঝামেলা শুরু হয়‌। অশান্তি দেখেই শান্ত করার চেষ্টা করেন পাত্রের বাবা। সেই সময় কয়েকজন মদ্যপ যুবক তাঁর উপর হামলা করে। লাঠি দিয়ে একজন প্রৌঢ়কে মারধর করে। মালাবদল ছেড়ে বিয়ের মণ্ডপ থেকে সোজা বাবাকে বাঁচাতে ছুটে যান পাত্র। অভিযোগ, সেই সময় পাত্রের উপরেই হামলা করে ওই মদ্যপ যুবক। 

পাত্রকে মারধর করার সময় বন্দুক দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি করে তাঁকে গাজিপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। শুক্রবার রাতে হাসপাতালেই প্রাণ হারান ওই যুবক। 

পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে ওই মদ্যপ যুবক বন্দুক নিয়ে বিয়ের আসরে নাচ করছিল। তার প্রতিবাদ করেছিলেন কয়েকজন। সম্ভবত সেই বন্দুক দিয়ে পাত্রের উপর হামলা করে সে। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।