গত সপ্তাহের তীব্র পতনের পর চলতি সপ্তাহে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। সেনসেক্স প্রায় ২,০০০ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৭% বেড়ে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চললেও বাজারে এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।
2
11
বুধবার সকালে বাজার খোলার পর সেনসেক্স ৪৯২.২৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬,৫৬৩.১৩-এ। একই সময়ে নিফটি ফিফটি ১৬৩.৬৫ পয়েন্ট উঠে পৌঁছয় ২৩,৭৪৪.৮০-এ। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল খাতের শেয়ারগুলির উত্থান এই র্যা লির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
3
11
গত সপ্তাহে ইরান সংঘাত এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় বাজারে বড়সড় ধস নামে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে চলতি সপ্তাহে সেই পরিস্থিতির বদল ঘটেছে মূলত তেলের দামের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে।
4
11
বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০১ ডলারের আশেপাশে রয়েছে, যা আগের আশঙ্কার তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম ১২০ ডলারের উপরে উঠে যাওয়ার ভয় আপাতত বাস্তবায়িত হয়নি, যা বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
5
11
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও বাজারে পুনরুদ্ধার হয়েছে। তাঁর মতে, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকাই এই উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি বাজার এখন ভালো খবরের প্রতি ইতিবাচক এবং খারাপ খবরের প্রতি সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
6
11
এই উত্থানের আরেকটি বড় কারণ ‘বার্গেন বাইং’ বা কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতা। গত সপ্তাহের পতনের পর অনেক ভালো মানের শেয়ার কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে।
7
11
এছাড়াও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারকে বড় সমর্থন দিয়েছে। মার্চ মাসে এখনও পর্যন্ত বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭০,৯৮৯.৯৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, দেশীয় বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৮৮,৩৪৫.৩৮ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। ফলে বিদেশি বিক্রির চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
8
11
বিশ্ববাজার থেকেও ইতিবাচক সঙ্কেত এসেছে, বিশেষ করে এশিয়ার বাজারগুলিতে শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের মনোভাব উন্নত করতে সাহায্য করেছে। যদিও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোটের উপর বিক্রেতা, তবুও টেলিকমের মতো কিছু নির্দিষ্ট খাতে তারা এখনও বিনিয়োগ করছেন।
9
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে এখন খাতভিত্তিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আইটি ও এফএমসিজি থেকে বিনিয়োগ সরে গিয়ে টেলিকম, ফার্মা, প্রতিরক্ষা এবং কিছু আর্থিক খাতে প্রবাহিত হচ্ছে।
10
11
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বাজার আপাতত স্থিতিশীল থেকে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সূচকগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তরের কাছে পৌঁছনোর কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া উচিত।
11
11
সব মিলিয়ে, বাজারে জোরদার প্রত্যাবর্তন হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে ইরান সংঘাত এবং তেলের দামের ওঠানামা ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগামী দিনে বাজার সম্ভবত সীমিত পরিসরে ওঠানামা করবে, যতক্ষণ না বিশ্বের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়।