আজকাল ওয়েবডেস্ক: শীর্ষ আদালতে বুধবার শুরু হয় আইপ্যাক মামলার শুনানি। বুধবার শুনানি শুরু হতেই রাজ্যের আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান। যার বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
শুনানিতে রাজ্যের তরফে ইডির মামলার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিবানের যুক্তি, ‘যদি কোনও সংস্থাকে কর্পোরেট বডি হিসেবে গঠন করতে হয়, তা কেবল সংসদের মাধ্যমেই করা সম্ভব। অধ্যায় ৬–এ কেন্দ্রীয় সরকারকে সংস্থা গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে মামলার অধিকার দেওয়া হয়নি। এই অধিকার আলাদাভাবে প্রদান করতে হয়।’ দিবান আরও বলেন, ‘অধ্যায় ৬ কোনও কর্পোরেট সত্ত্বা তৈরি করে না। ফলে এই সংস্থা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ এর অধীনে মামলা করতে পারে না। কারণ তাদের সেই আইনি অধিকার নেই।’ এই বিষয়ে
দিবানের যুক্তি, ‘অনুচ্ছেদ ৩২ প্রয়োগ করতে হলে মৌলিক অধিকার থাকতে হয়। যা কেবল একজন ব্যক্তি–প্রাকৃতিক ব্যক্তি বা আইনি কর্পোরেট সত্তা–হতে পারে। যদি কেউ না প্রাকৃতিক ব্যক্তি হয়, না আইনি সত্তা হয়, তবে তার মামলা করার অধিকারও নেই।’ তিনি বলেন, ‘PMLA–র অধীনেও কোনও জুরিস্টিক পার্সোনালিটি তৈরি করা হয়নি। সেখানে কিছু দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে বটে, কিন্তু মামলা করার অধিকার দেওয়া হয়নি।’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে দিবান Chief Conservator of Forest vs Collector (2003) মামলার রায়ের উল্লেখও করেন। তাঁর কথায়, ‘সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও রেফারেন্স শুনানির জন্য ন্যূনতম পাঁচ জন বিচারপতি থাকতে হয়।’
এটা ঘটনা, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সময় চাওয়ার আর্জির বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘দুই সপ্তাহ আগেই অতিরিক্ত হলফনামা দাখিল করা হয়েছে। অন্তত মামলাটা পিছোনোর জন্য একটা যুক্তিযুক্ত কারণ থাকা উচিত।’ দুই পক্ষের উদ্দেশেই অবশ্য বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, ‘শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার লড়াই চলছে না। আপনারা সওয়াল শুরু করুন।’ এরপরেই রাজ্যের তরফে এই যুক্তি দেন আইনজীবী শ্যাম দিবান।
