আজকাল ওয়েবডেস্ক: আকাশপথের হাজারো বিধিনিষেধও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারল না। দোহা থেকে পাঁচটি বিশেষ বিমানে চেপে দেশে ফিরলেন অন্তত ১,৬০০ ভারতীয়। মঙ্গলবার কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ উড়ানে ঘরে ফেরার এই তৎপরতা নজরে এসেছে। কাতারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, মঙ্গলবার যে পাঁচটি বিমান ভারত রওনা দেয়, তার মধ্যে দু’টি দিল্লির। বাকি তিনটি পাড়ি দিয়েছে মুম্বই, কোচি ও তিরুবনন্তপুরমের পথে। বর্তমানে কাতারের আকাশসীমা কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় নিয়মিত বিমান চলাচল বন্ধ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে হাতেগোনা কিছু বিমান চালানোর অনুমতি মিলেছে।

বুধবার থেকে ভারতের মোট ন’টি গন্তব্যে বিমান চালুর কথা ঘোষণা করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। সংস্থার ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারবেন। পাশাপাশি, যাঁরা স্থলপথে সালওয়া সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরব হয়ে দেশে ফিরতে চাইছেন, তাঁদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘ট্রানজিট ভিসা’র বন্দোবস্ত করছে দূতাবাস।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে আগামী সপ্তাহ জুড়ে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকছে দূতাবাসের কন্ট্রোল রুম। পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজ বা যে কোনও প্রয়োজনে ফোন, ইমেল বা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা যাবে। একই সঙ্গে ভারতীয়দের প্রতি দূতাবাসের বিশেষ আর্জি, তাঁরা যেন স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলেন এবং কোনওরকম গুজবে কান না দেন।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেনি ভারত। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, পারস্য উপসাগরের এই রণক্ষেত্রে কোনও বিদেশি জোটে শামিল হওয়ার পরিকল্পনা আপাতত দিল্লির নেই। বরং কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে।

অন্যদিকে, ভারত কোনও বহুপাক্ষিক নৌ-জোটে যোগ না দিলেও, নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে পাহারা দিতে ভারতীয় নৌবাহিনী নিজস্ব রণতরী মোতায়েন রেখেছে।

বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। তাই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতির বদলে ইরানকে আলাদা কোনও সুবিধা দিতে হয়নি ভারতকে। জয়সওয়ালের কথায়, “এটা কোনও লেনদেনের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন।”

পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও মুখ খুলেছে দিল্লি। ভারতের স্পষ্ট কথা- যুদ্ধ নয়, বরং সংযম এবং কূটনীতির মাধ্যমেই শান্তি ফেরানো প্রয়োজন। কোনও দেশের 'সার্বভৌমত্বে' আঘাত করা ভারতের কাম্য নয়।