আজকাল ওয়েবডেস্ক: গতকাল রাত ১১টা। যখন গোটা কানপুর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন তিকওয়াপুর গ্রামে হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে মাটি খুঁড়ছিল পুলিশ। টর্চ আর গাড়ির হেডলাইটের আলোয় সাত ফুট গভীর গর্ত থেকে বেরিয়ে এল একটি কঙ্কাল। আর সেই কঙ্কালকে ঘিরেই সামনে এল পরকীয়া প্রেম, ঘৃণা আর চরম নৃশংসতার এক কাহিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই কঙ্কালটি ৪৫ বছর বয়সী রেশমার। তিনি সাত সন্তানের মা ছিলেন। অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস আগে রেশমাকে খুন করে তাঁরই প্রেমিক গোরেলাল। রেশমার স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রতিবেশী গোরেলালের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সন্তানদের ছেড়ে তিনি প্রেমিকের সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন। রেশমা নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ছেলে বাবলু গোরেলালের কাছে জানতে চেয়েছিলেন মা কোথায়? গোরেলাল শুধু উত্তর দিয়েছিল, "তোর মা আর ফিরবে না।" প্রথমে একে গুরুত্ব না দিলেও, পরে সন্দেহ হওয়ায় গত ২৯ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ জানান বাবলু। সেই সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় গোরেলালকে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর এপ্রিল মাসে রেশমার সঙ্গে গোরেলালের তুমুল অশান্তি হয়। গোরেলাল চাইছিল রেশমা যেন তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। কিন্তু রেশমা রাজি না হওয়ায় দুজনার মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে তাঁকে গলা টিপে খুন করে গোরেলাল। জানা গিয়েছে, দু’দিন মৃতদেহটি ঘরেই লুকিয়ে রেখেছিল সে। প্রথমে দেহটি খালে ফেলে দেওয়ার কথা ভাবলেও ধরা পড়ার ভয়ে গ্রামের এক নির্জন জায়গায় গর্ত খুঁড়ে তা পুঁতে দেয় অভিযুক্ত।
পুলিশের কাছে জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছে গোরেলাল। রেশমার কঙ্কালটি উদ্ধার করার পর তাঁর গয়না ও পোশাক দেখে পরিচয় শনাক্ত করেছেন পরিজনরা। হাড়গুলি এখন ফরেন্সিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷
অন্যদিকে, আবারও দিল্লিতে ভয়াবহ ঘটনা৷ লক্ষ্মীনগরে ঘটে গেল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। নিজের মা, ভাই এবং বোনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার চেয়েও বেশি পুলিশের নজর কেড়েছে অভিযুক্তের আচরণ। তিনজনকে শেষ করে দিয়ে ওই যুবক সোজা চলে যান স্থানীয় থানায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাছে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ঘটনায় রীতিমত হতভম্ব সবাই৷
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা এবং এক জন পুরুষ। তাঁরা প্রত্যেকেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য। যুবকের স্বীকারোক্তির পরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। ঘর থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঠিক কী কারণে নিজের পরিবারের লোকেদের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালালেন ওই যুবক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ শুরু করেছে। পারিবারিক কোনও অশান্তি নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তদন্ত জারি রয়েছে৷
