আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের মন্ত্রকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকার ভর্তুকি নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী। এই খবর সামনে আসতেই হইহই কাণ্ড। প্রশ্ন তুলছেন বিরোধিরা। এবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী। ভগীরথ চৌধুরীর দাবি, বিষয়বস্তু না জেনেই তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে
নিশানা করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সংবাদ মাধ্যমের কাছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভর্তুকি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁকে এই ভর্তুকির অর্থ দেওয়া হয়েছে।
ভগীরথ চৌধুরী জানিয়েছেন, 'মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার'-এর আওতায় তিনি এই ভর্তুকি পেয়েছেন। ২০১৪ সালে চালু হওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল- শাকসবজি ও ফুল-সহ উদ্যানজাত ফসলের বাণিজ্যিক চাষাবাদকে উৎসাহিত করা। মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের আওতায় পলিহাউস তৈরির খরচের ওপর ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়, যে সুবিধা সারা দেশের হাজার হাজার কৃষক পেয়ে থাকেন।
ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন ভগীরথ চৌধুরী। কেন তিনি এই ভর্তুকির জন্য আবেদন করেছিলেন সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "রাজস্থানের দিদওয়ানা-কুচামান জেলার পিহ গ্রামে আমার জমি রয়েছে। ওই এলাকায় তীব্র জলের সঙ্কট রয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমি বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য দুই কোটি লিটার ধারণক্ষমতার একটি খামার-পুকুর তৈরি করি এবং একটি পলিহাউসওগড়ে তুলি।"
চৌধুরী জানান, তিনি ২০১৮ সালে ভর্তুকির জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু পলিহাউস স্থাপন, ছয় মাস ধরে ফসল ফলানো এবং বাধ্যতামূলক ছবি তোলা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালে সেই ভর্তুকির অর্থে ছাড় দেওয়া হয়।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ভগীরথ চৌধুরী ভর্তুকি পাওয়ার বিষয়ে জানান, নিজের খামারে একটি বড় বোর্ড লাগিয়ে তিনি ঋণ ও ভর্তুকি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমার যদি কোনও অসৎ উদ্দেশ্য থাকত বা আমি যদি কোনও অন্যায় করতাম, তবে কেন আমি এমন একটি বোর্ড লাগাতাম?"
কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "সরকারি সহায়তা ছাড়া একজন সাধারণ কৃষকের পক্ষে পলিহাউস তৈরি করা আর্থিকভাবে লাভজনক বা সাশ্রয়ী নয়। আর তাই কৃষকদের স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে এই ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হয়।" মন্ত্রী জানান, তিনি নিয়মিত অন্যান্য কৃষককে তাঁর খামার পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান, যাতে তাঁরা আধুনিক ও উন্নত কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই পলিহাউসে শসা, টমেটো, ক্যাপসিকাম ও ধনেপাতার চাষ করা হচ্ছে।















